ওঙ্কার ডেস্ক: রবিবার নিউটাউনে গৌরাঙ্গনগরে এক গেস্ট হাউসে উদ্ধার হয়েছে বছর ৩৪ এর ওক তথ্য প্রযুক্তি সেক্টরে কর্মরত চন্দ্রনাথ মুখ্যোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তির। গত ২ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। পরে তার পরিবারের লোকজন নোয়াপাড়া থানার মামলা দায়ের করলে চন্দ্রনাথের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে ঐ গেস্ট হাউসে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানেই তাঁর পচা গলা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি ঘুমের ওষুধের শিশিও পাওয়া গেছে। তার থেকেই বিষক্রীয়া থেকে মৃত্যুর অনুমান করা হচ্ছে।
পুলিশ সুত্র অনুযায়ী শুক্রবার রাতে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে, যখন পুলিশ গেস্ট হাউসের একটি কক্ষ থেকে পচাগলা গন্ধ পেয়ে সন্দেহজনকভাবে তল্লাশি চালায়। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকেই দেখা যায়, বিছানার উপর পড়ে রয়েছে এক যুবকের নিথর দেহ। পরে পরিচয় জানা। তিনি উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের বাসিন্দা এবং একটি আইটি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন চন্দ্রনাথ। তাঁর খোঁজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পরিবার। কোথাও খোঁজ না পেয়ে নোয়াপাড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়। পুলিশ মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে জানতে পারে তিনি নিউটাউনের ওই গেস্ট হাউসেই ছিলেন। এরপরই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
গেস্ট হাউসের কক্ষ খুলতেই ভেসে আসে তীব্র দুর্গন্ধ। দরজা ভেঙে পুলিশ ভিতরে ঢুকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। দেহের পাশেই মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায় বেশ কয়েকটি ঘুমের ওষুধের স্ট্রিপ। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ওষুধ সেবনের জেরেই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ খতিয়ে দেখছে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও কারণে মৃত্যু।
মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ পরিষ্কার হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি, পুলিশ গেস্ট হাউসের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। ওই কক্ষে চন্দ্রনাথ একাই ছিলেন, না অন্য কারও সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তাও জানার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। বাসিন্দাদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন গেস্ট হাউসের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থার উপর। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও বিশদে তদন্ত করা হবে। পরিবারের সদস্যরাও চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। পুরো ঘটনার উপর কড়া নজর রাখছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং প্রমাণ সংগ্রহের পরই পরবর্তী পদক্ষেপের রূপরেখা ঠিক হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
