ওঙ্কার ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। আরএসএস এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপির তাণ্ডবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক লোগোর রেপ্লিকা ভেঙে পড়ে বলে অভিযোগ। যে ঘটনার পর ক্যাম্পাসে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নন্দলাল বসুর হাতে তৈরি ওই রেপ্লিকা আক্রান্ত হওয়ার পর সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিশিষ্টরা।
১৯৫৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়। প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র ভাবমূর্তি তুলে ধরতে প্রয়োজন হয়েছিল একটি প্রতীকের। সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুকে। নন্দলাল বসু সেই সময় শান্তিনিকেতনের কলাভবনের অধ্যক্ষ ছিলেন।সংবিধানের মূল পাণ্ডুলিপির অলংকরণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। যাদবপুরের লোগোতেও তিনি রেখে গিয়েছেন প্রতীকী উপাদান। লোগোর বাইরের অংশে রয়েছে পদ্মের পাপড়ি। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশজ সংস্কৃতি ও পবিত্রতার ভাবনা। লোগোর কেন্দ্রে রয়েছে মাটির প্রদীপ। অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতীক এই প্রদীপ। এর তিনটি শিখারও রয়েছে আলাদা তাৎপর্য। একটি শিখা বৌদ্ধিক বিকাশের প্রতীক। অন্যটি আবেগ ও কল্পনাশক্তির বিকাশকে নির্দেশ করে। তৃতীয় শিখাটি আধ্যাত্মিক উন্নতি ও চরিত্র গঠনের ভাবনা তুলে ধরে।
বুধবার রাতের ঘটনা নিয়ে গোলপার্কে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ জমায়েত করে এবিভিপি ৷ সেখান থেকে তারা মিছিল করে আসে যাদবপুর থানার কাছে৷ সেখানে তারা পুলিশি বাধার মুখে পড়ে ৷ পুলিশের সঙ্গে আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় ৷ ব্যারিকেড ভেঙে তাদের মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে আসে ৷ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় আগে থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সবকটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোতায়ন করা হয় বিশাল সংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী । ধ্বস্তাধস্তির সময় চার নম্বর গেটে লাগানো যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় লোহার লোগো ভেঙে যায় ।