নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : “ভাত খেয়ে নিই, তারপর কথা বলবো” — এই বাক্যে ভরসা করে খাবার এগিয়ে দিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা, ভাবেননি খাবার শেষ হওয়ার আগেই চোর উধাও হবে। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটে জলপাইগুড়ির কোতোয়ালি থানার পাত কাটা কলোনিতে। একদম সিনেমার সিকোয়েন্স যেন ! খাবার, সন্দেহ, পাহারা, অন্ধকার আর এক ফাঁকে চম্পট !
পূর্বে এলাকা থেকে একটি ই-রিকশার ব্যাটারি চুরির অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘদিন ধরেই নেশাগ্রস্ত যুবকদের আনাগোনায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, চুরি ছাড়াও নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে বারবার উত্তপ্ত হয়েছে অঞ্চলটি। এরই মাঝে মঙ্গলবার এক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান শেষে গ্রামবাসীরা সন্ধের দিকে দেখতে পান চোর সন্দেহে নজরে থাকা যুবক গুড্ডুকে। গুড্ডুর হাতে তখন এক থালা ভাত ও একটি জলের বোতল। গ্রামবাসীরা চুরির কথা তুলতেই সে বলে, “আগে খেয়ে নিই, তারপর যা বলার বলবো”!
চোর বলছে খাবে, আর গ্রামবাসীর মনে জেগে ওঠে বাঙালির চিরাচরিত আবেগ ! রাস্তার ধারে একটি ছোট ঘরে বসিয়ে পাহারার বন্দোবস্ত হয়। কেউ পাহারা দেয়, আর নিশ্চিন্তে খেতে থাকে চোর ।
আর ঠিক তখনই ঘটে নাটকের চূড়ান্ত পরিণতি। অর্ধেক ভাত খেয়েই, পাহারাদারের চোখ এড়িয়ে গা ঢাকা দেয় গুড্ডু! তৎক্ষণাৎ এলাকা জুড়ে হুলুস্থুল, ভাত গেল, চোর গেল, মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল গোটা পাড়া।
এই ঘটনায় ফের একবার প্রশ্ন উঠে এল — চোর ধরার আগে কি তাকে ভাত খাওয়ানো উচিত, নাকি পুলিশ ডাকলে কাজে দেয় ? এই নিয়ে এখন এলাকায় তুমুল জল্পনা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ‘ভাত কাণ্ড’ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা ও চটুল মন্তব্যের বন্যা।
