ওঙ্কার ডেস্ক: মঙ্গলবার গভীর রাতে জম্মুর বৈষ্ণোদেবী যাত্রাপথে ভয়াবহ ধস নামে। ঘটনায় অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। আহত হয়েছেন আরও ২৩ জন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ধসের নিচে এখনও বহু মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন। মৃত ও আহতদের অধিকাংশই পুণ্যার্থী। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।
অবিরাম বৃষ্টির দাপটে ভয়াবহ বিপর্যয়ে কেঁপে উঠেছে উত্তর ভারত। টানা কয়েকদিন ধরে চলা ভারী বর্ষণে পাহাড়ি এলাকায় হড়পা বান ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। এতে শুধু প্রাণহানিই নয়, ভেঙে পড়েছে রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও। রাজ্যের একাধিক জেলায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সেনা, পুলিশ ও মন্দির কমিটির সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকাজে নামেন। বৃষ্টির কারণে সেই তৎপরতায় বারবার ব্যাঘাত ঘটছে। রাজ্যের একাধিক জেলায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তাঘাট ভেঙে পড়েছে, বহু সেতু অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত। জম্মু ও রিয়াসি জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। প্রশাসনের তরফে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে। যাঁরা গুরুতর জখম, তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি দুর্গতদের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্পে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দুই তিন দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কাটরা, জম্মু, সাম্বা, রিয়াসি, উধমপুর, ডোডা ও কিস্তওয়ারে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিপর্যয়ের কারণে বৈষ্ণোদেবী যাত্রা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে হিমাচল প্রদেশের মানালিতে বিপাশা নদী ফুলেফেঁপে শহরে ঢুকে পড়েছে। প্রবল স্রোতে এক বহুতল হোটেল সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। নদীর জলে তছনছ হয়ে গিয়েছে বেশ কিছু দোকানও। মানালি-লেহ্ হাইওয়ের একাধিক জায়গা ভেঙে পড়ায় আটকে রয়েছে বহু যানবাহন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন, কিন্তু চারিদিকে জল ভেসে যাওয়ায় তাঁরা কার্যত আটকে পড়েছেন। বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে বিপাশার রুদ্ররূপ ধরা পড়েছে। কোথাও রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে, কোথাও আবার নদীর জলে ভেসে যাচ্ছে দোকান ও বাড়িঘর। এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বিখ্যাত রেস্তরাঁ শের-এ-পাঞ্জাবের দেওয়াল ছাড়া কিছুই টিকে নেই। অবিরাম বৃষ্টির কারণে জম্মু-কাশ্মীরে আপাতত রেল পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ২২টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
অবিরাম বর্ষণ ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত জম্মু-কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশের অবস্থা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজ চললেও আবহাওয়ার কারণে তাতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্যোগ থেকে কবে মুক্তি মিলবে, তার অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন পাহাড়ি দুই রাজ্যের বাসিন্দারা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে যাওয়ার পথে ভূমিধসের কারণে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর ভাবে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন “শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী মন্দিরে যাওয়ার পথে ভূমিধসের কারণে প্রাণহানির ঘটনা দুঃখজনক। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা । আহতরা দ্রুত আরোগ্য লাভ করুক। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত সকলকে সহায়তা করছে। সকলের নিরাপত্তা ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করছি”।
