ওঙ্কার ডেস্ক: বিহারের মোকামা বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে ফের রক্তাক্ত রাজনীতি। প্রশান্ত কিশোরের জনসুরাজ পার্টির কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হলেন জেডিইউ প্রার্থী তথা বিতর্কিত নেতা অনন্ত সিং। শনিবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে বিহার পুলিশ। তাঁর সঙ্গে আরও দু’জন সহযোগী, মনিকান্ত ঠাকুর ও রঞ্জিত রামকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে মোকামা অঞ্চলে।
ঘটনাটি ঘটে নির্বাচনী প্রচারের সময়। অভিযোগ, পাটনা জেলার অন্তর্গত মোকামা এলাকায় জনসুরাজ পার্টির কর্মী দুলারচন্দ যাদবের সঙ্গে জেডিইউ সমর্থকদের সংঘর্ষ বাধে। সেই সংঘর্ষেই মারাত্মকভাবে আহত হন দুলারচন্দ। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রথমে গুলিচালনার অভিযোগ উঠলেও ময়নাতদন্তে জানা যায়, শক্ত কোনও ভোঁতা বস্তুতে আঘাতের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে গভীর চোটের চিহ্ন মিলেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
এই ঘটনার পরই জনসুরাজ পার্টির পক্ষ থেকে অনন্ত সিং ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ তদন্তে নামার পর শনিবার রাতে অনন্ত সিংকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, অনন্ত সিং বিহারের রাজনীতিতে ‘ছোটে সরকার’ নামে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অপরাধমূলক মামলার অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে স্থানীয় একটি দলের সঙ্গে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত নিয়ে গুলির লড়াইয়ে নাম জড়িয়েছিল অনন্ত সিং-এর।
নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে এই ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট হওয়ার কথা ৬ নভেম্বর। তার আগেই শাসকদল জেডিইউ-র প্রার্থীর গ্রেফতার নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের আইনশৃঙ্খলার দায় নিয়ে সরব হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে এবং মডেল কোড ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এলাকা প্রশাসনের কয়েকজন আধিকারিককে বদলি করেছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়ায় কোনওভাবেই সহিংসতা বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা সহ্য করা হবে না।
অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা এখনও তুঙ্গে। এলাকাবাসীর একাংশের মতে, মোকামা বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অস্থির এবং জাতিগত সংঘাতপ্রবণ এলাকা। দুলারচন্দ যাদবের মৃত্যুর পর সেই পুরনো ক্ষতই ফের উসকে উঠেছে। সমাজের নানা গোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, আবার অন্যদিকে কিছু এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে। সমস্ত অভিযুক্তদের জেরা করা হবে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। যদিও রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই গ্রেফতার নির্বাচনের ফলাফলের গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।
