ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং ফরাসি সংস্থা সাফরান যৌথভাবে দেশের প্রথম অত্যাধুনিক জেট ইঞ্জিন তৈরি করতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরেই স্বদেশি যুদ্ধবিমানের জন্য নির্ভরযোগ্য জেট ইঞ্জিনের অভাব ছিল। অবশেষে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প শুরু হয়েছে।
ডিআরডিওর গ্যাস টারবাইন রিসার্চ এস্টাবলিশমেন্ট এবং সাফরান মিলে প্রায় ১২ বছরের মধ্যে এই ইঞ্জিন সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১২০ কিলো-নিউটনের শক্তিসম্পন্ন ইঞ্জিন তৈরি হবে, যা ধীরে ধীরে উন্নীত হয়ে ১৪০ কিলো-নিউটন শক্তির স্তরে পৌঁছবে। জানা গিয়েছে, পুরো প্রকল্প চলাকালীন অন্তত নয়টি প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক ইঞ্জিন তৈরি করা হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এই ইঞ্জিন তৈরির মেধাস্বত্ব ভারতের হাতে থাকবে। ফরাসি সংস্থা সাফরান ভারতের সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তি ভাগ করে নেবে। বিশেষত ‘ক্রিস্টাল ব্লেড’ প্রযুক্তি, যা উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে টিকে থাকতে সক্ষম বিশেষ ধাতব সংমিশ্রণ ব্যবহার করে, তা ডিআরডিওকে হস্তান্তর করা হবে। এতদিন পর্যন্ত উন্নত যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিনের জন্য ভারতকে বিদেশি সংস্থার উপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু এই প্রকল্প সফল হলে দেশীয় প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি প্রথম জেট ইঞ্জিন ভারত পেতে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধবিমানের শক্তি নির্ভর করে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতার উপর। তাই এই প্রকল্প ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তবে ইঞ্জিন তৈরির পথে নানা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে উচ্চ মানের মেটালার্জি, নিখুঁত উৎপাদন প্রক্রিয়া, টারবাইন ব্লেডের জটিল নকশা, দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ মানদণ্ড পূরণ করা বড় দায়িত্ব। প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে চলবে কঠিন পর্বের পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হল। ভবিষ্যতে দেশীয় যুদ্ধবিমান প্রকল্প যেমন অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট, তেমনই এই ইঞ্জিন ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রকল্প সফল হলে কেবল বিদেশি সংস্থার উপর নির্ভরশীলতা কমবে না, বরং ভারত উচ্চ প্রযুক্তির জেট ইঞ্জিন নির্মাণে বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের তালিকায় নাম লেখাবে।
