নিজস্ব সংবাদদাতা : নদিয়ার কালীগঞ্জে বোমার আঘাতে নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় চার মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এই গ্রেফতার। রাজ্য পুলিশ X-এর একটি পোস্টে জানিয়েছে এই গ্রেফতারের কথা। কৃষ্ণনগর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় X-এর মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। মৃতের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওরা সকলেই তৃণমূলের লোক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সকেট বোমার আঘাতে যে নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে তার পরিবার সিপিএমের সমর্থক।

মঙ্গলবার সকালে কৃষ্ণনগর পুলিশ X-এর মাধ্যমে জানিয়েছে, কালীগঞ্জে বোমার আঘাতে নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে চার মূল অভিযুক্তকে। ধৃতেরা হল, আদর শেখ, মানোয়ার শেখ, কালু শেখ এবং আনওয়ার শেখ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবারই এদের আদালতে হাজির করানো হচ্ছে।

সোমবার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরই শুরু হয় তৃণমূলের বিজয় মিছিল। তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ায় সমর্থকদের মধ্যে উল্লাসের মাত্রা বাড়তে থাকে। তা পরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আকার নেয় বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। তাঁরা জানিয়েছেন, বেছে বেছে সিপিএম সমর্থকের বাড়ি টার্গেট করে একদল দুষ্কৃতী। তারা যে সকলে তৃণমূলের একথাও জানিয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ, এমন একটি বিজয়মিছিল থেকে বোমা ছোড়া হয় সিপিএম কর্মীদের বাড়ি লক্ষ্য করে। সেই বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় বড় চাঁদঘর পঞ্চায়েতের মোলান্দা গ্রামের বাসিন্দা বছর দশেকের তামান্না খাতুনের। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সে। মৃতার মা সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, “আমি দেখেছি কারা বোমা ছুঁড়েছে। আমরা সিপিএম করি। ওদের নাম না-জানলেও সকলের মুখ চেনা, সবাই তৃণমূল করে।’’
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে যায় বিরোধী দলগুলির তুমুল অভিযোগ। বিজেপি বলেছে, তৃণমূল রক্তপাত ছাড়া ভোটে জিততে পারে না ! বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেছেন, এরাজ্যে পঞ্চায়েত থেকে পার্লামেন্ট সব ভোটেই রক্তক্ষয় পশ্চিমবঙ্গের একটা সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
