নিজস্ব সংবাদদাতা : তৃণমূলের অন্দরে ঘোরতোর বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে! যার জেরে নারদা ইস্যু তুলে সৌগত রায়কে বেলাগাম আক্রমণ শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এমনকী তাঁকে চোর বলেও সরাসরি তোপ দেগেছেন কল্যাণ। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের দফতরে একটি ডেপুটেশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সংসদীয় দলের মধ্যে সংঘাত চরমে ওঠে। আর এই ইস্যুতে নাম না করে এক মহিলা সাংসদকেও তীব্র আক্রমণ শানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তা বলতে গিয়ে দমদমের তৃণমূল সাংসদকে চোর বলে আক্রমন করলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ। রাখঢাক না করে সরাসরি বললেন, উনি তো নারদার চোর। টাকা তো নিয়েছিলেন। ওনার জন্য তৃণমূলের ভাবমূর্তি অনেক ক্ষতি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়কে সবাই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন’ হিসাবেই জানেন সবাই। তাঁর মুখে দলের আরেক প্রবীন সাংসদকে নিয়ে এমন বিষোদ্গার স্বাভাবিক ভাবেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও সৌগত বলছেন, “একদম বাজে কথা। আমি ২০০১ থেকে রয়েছি। কল্যাণ মাঝখানে হেরে গিয়েছিল। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্ধভাবে অনুসরণ করি।” তাহলে কী তিনি অভিযোগ জানাবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে? সৌগত বলছেন, তিনি আপাতত কোনও গুরুত্ব দিতে চাইছেন না কল্যাণকে। স্পষ্ট বলছেন, “কল্যাণের ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়ে নিজেকে ছোট করতে চাই না। গুরুত্বই দিচ্ছি না। কল্যাণের রুচিবোধও কম, সভ্যতাও কম, শ্লীলতাও কম। নারদার চোর হলে সেটা প্রমাণ করতে পারল না কেন কোর্টে।” এভাবেই কল্যাণের আক্রমণের পরেই চাঁচাছোলা ভাষায় পাল্টা তোপ দাগলেন সৌগত রায়। খোঁচা দিয়ে বললেন, ‘প্রত্যেকের সভ্যতা-শিষ্টতা তাঁর হাতে।’
তবে সামগ্রিক ভাবে লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলে যে দ্বন্দ্বের আবহ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে সাংসদেরা অবহিত। যদিও রাজ্যসভার পরিস্থিতি তেমন নয়। লোকসভার সংসদীয় দলের পরিস্থিতি দেখে রাজ্যসভার এক নবীন সাংসদ ঠাট্টা করে বলেছেন, ‘‘লোকসভার গ্রুপে যা যা হচ্ছে বলে শুনছি, তা কলেজ ছাত্রছাত্রীদের গ্রুপেও হয় না। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ধরন দেখলে বোঝা যাচ্ছে বিষয়টা বৈরিতার পর্যায়ে চলে গিয়েছে।’’
তৃণমূলের এই গৃহযুদ্ধকে হাতিয়ার করবে বিজেপি, এটাই স্বাভাবিক। আর হলও তাই। মাধ্যম হিসেবে বিজেপি আপাতত বেছে নিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াকে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডলে মঙ্গলবার সকালে একটি পোস্ট করেছেন, যেখানে তৃণমূলের লোকসভা সাংসদদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের বিভিন্ন বক্তব্যের স্ক্রিনশট দেখা গেল। ওই পোস্টে মালব্য প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কে এই ভার্সেটাইল ইন্টারন্যাশনাল লেডি ?’ প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মহিলা সাংসদকে ওই বিশেষণেই ভূষিত করেছেন দলের প্রবীণ সাংসদ। মালব্য যে স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে দিয়েছেন, তাতে নাম রয়েছে তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নতুন সাংসদ কীর্তি আজাদের।
বিজেপি নেতা অমিত মালব্যের পোস্ট ঘিরে তোলপাড় চলছে বঙ্গ রাজনীতির আঙিনায়। নির্বাচনের কমিশনের দফতরে তৃণমূলের দুই সাংসদের ঝামেলা ঘিরেই যত ঘটনার সূত্রপাত। তৃণমূলের এক মহিলা সাংসদকে কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছে কল্যাণের বিরুদ্ধে। কিন্তু, আসলে ঠিক কী হয়েছিল, মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে সবটাই ‘খোলসা’ করলেন কল্যাণ। সেই সঙ্গে সৌগত রায়কে বেলাগাম আক্রমণ করে বসলেন কল্যাণ। টানলেন নারদা কেসের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, সৌগত রায়ের নারদা কেসের জন্যই তো দলের ভাবমূর্তি অনেক নষ্ট হয়েছে। সাফ বললেন, “নারদার চোর একটা…টাকা কে নিয়েছে? চোরগুলো সব এক জায়গায় চলে এসেছে।” এখানেই না থেমে তিনি আরও বললেন, “সৌগত রায়ের কোনও ক্যারেক্টর রয়েছে নাকি? এখানে এক জন বলে, ওখানে আরেক কথা বলা। ওর ক্যারেক্টরই হচ্ছে একবার এর পিছনে লাগো, এক বার ওর পিছনে লাগো।”
