ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন কর্নাটকে ভোটার তালিকায় বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, মূলত কংগ্রেস সমর্থক ভোটারদের চিহ্নিত করে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। রাহুলের এই দাবির পর দেশজড়ে শোরগোল পড়ে যায়। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও তদন্ত শুরু করা না হলেও, কর্নাটকের কংগ্রেসশাসিত সরকার এই ঘটনায় স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্ত শেষে সিট জানায়, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীদেরকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য ভোটার পিছু ৮০ টাকা করে ঘুষ দেওয়া হয়।
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ ছিল, কর্নাটকে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত করে কংগ্রেসপন্থী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য ভিন রাজ্যের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল। বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট জানিয়েছে, সে রাজ্যের আলন্দ বিধানসভা কেন্দ্রে ৬,০১৮টি ভুয়া আবেদন জমা পড়েছিল, যার ফলে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়।
এই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর কর্নাটক সরকারের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এ দিকে কমিশন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রের খবর, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজটি করেছে যেহেতু রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা। তাই তাদের বিরুদ্ধে কর্নাটকের কংগ্রেসশাসিত সরকার মামলা দায়ের করতে পারে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে পারে সিদ্দারামাইয়া সরকার। সিটের তদন্ত রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে বিশদ তদন্তের আবেদনও জানাতে পারে রাজ্য।
