নিজস্ব সংবাদদাতা : কসবা ল’ কলেজে্র মধ্যেই ছাত্রীর গণধর্ষণের ঘটনায় রাজনৈতিক বারুদ জমতে শুরু করেছে। আরজিকর কাণ্ডের পর ফের কলেজ ক্যাম্পাসে পড়ুয়ার ধর্ষণের ঘটনায় বিস্মিত রাজ্যবাসী। রাজ্য সরকার কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সম্পর্কে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও, ইতিমধ্যে গলা চড়িয়েছে বিজেপি। যদিও বঙ্গ বিজেপি এখন ব্যস্ত রথযাত্রা নিয়ে, তৃণমূলও রাজ্যের মানুষের চোখ টেনে রেখেছে দিঘার জগন্নাথদেবের রথযাত্রায়। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিকদের বলেছেন, “এই অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা” সম্পর্কে তাঁকে এখনও পর্যন্ত কেউ অবহিত করেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, “আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলব এবং তারপর মিডিয়ার সাথে কথা বলব।”

X-তে একটি পোস্টে, অমিত মালব্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই ঘটনাকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে তিনি লিখেছেন, ” ২৫শে জুন কলকাতার উপকণ্ঠ কসবার একটি আইন কলেজের ভেতরে একজন মহিলা আইন ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত, একজন প্রাক্তন ছাত্রী এবং দুই কলেজ কর্মী সদস্য দ্বারা।” তিনি আরও বলেন, একজন তৃণমূল সদস্য জড়িত ছিলেন, তবে তার দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি।
“আরজি করের ভয়াবহতা এখনও কমেনি… তবুও বাংলায় প্রতিদিনই এই ধরণের জঘন্য অপরাধ বেড়েই চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনাকালে, বাংলা নারীদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ধর্ষণ একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে…”
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারীও তৃণমূলকে আক্রমণ করে X-এ লিখেছেন, “লজ্জাজনক ! তৃণমূলের অধীনে বাংলা আইনশৃঙ্খলার আরও গভীরে ডুবে যাচ্ছে। ২৫শে জুন, কসবা আইন কলেজে এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন বর্তমান ছাত্রী এবং একজন প্রাক্তন ছাত্রী জড়িত…”

তিনি বলেন, তৃণমূলের অধীনে বাংলা আইনশৃঙ্খলার আরও গভীরে ডুবে যাচ্ছে। ২৫শে জুন, কসবা আইন কলেজে এক কলেজ ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন বর্তমান ছাত্রী এবং একজন প্রাক্তন ছাত্রী জড়িত…”।
মিঃ ভান্ডারী আরও অভিযোগ করেছেন যে, ভুক্তভোগীর অবস্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তিনি জানতে চেয়েছেন, “নীরবতা কেন ? তারা কাদের রক্ষা করছে ? এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের তথাকথিত মহিলা নেত্রীদের ক্ষোভ কোথায় ?” বিজেপির এই দুই কেন্দ্রীয় মুখপাত্রের মন্তব্য নিয়ে পালটা কোনো জবাব মেলেনি তৃণমূলের। তবে রথযাত্রার রেশ কেটে গেলে আবার এক তুমুল শোরগোল উঠতে পারে কলকাতায় এমন সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে এগোচ্ছে প্রশাসন।
