ওঙ্কার ডেস্ক: গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে চরম অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের উপর আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছিল তৎকালীন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেয়া আয়াতল্লা আলি খামেনিইকে। তারপর ইরানও আক্রমণাত্মক হামলা চালায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং সেখানে থাকা ওয়াশিংটনের মিত্র দেশ গুলির উপর। দীর্ঘ আঘাত পালটা আক্রমণের পর গত বুধবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই পক্ষ। এই শান্তি সমঝোতার আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে আসে পাকিস্তান ও পরে চিন। ইজরায়েল অবশ্য যুদ্ধবিরতির আলোচনায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কিন্তু এবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ সরাসরি কড়া ভাষায় ইজরায়েলকে কটাক্ষ করেছেন। এমনকি ইজরায়েল মানবজাতির উপর অভিশাপ বলেও মন্তব্য করেছেন।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ইজরায়েল শয়তানের দেশ যা গোটা মানবজাতির উপর এক অভিশাপ”। লেবাননে ইজরায়িলি হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার সময় লেবাননে সাধারণ মানুষদের খুন করেছে ইজরায়েল”। তিনি আরও বলেন, ” ইজরায়েল প্রথমে গাজায় তারপর ইরানে আর এখন লেবাননে নিজেদের হত্যা লীলা দেখাছে”। এতে থেমে থাকেননি পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে লেখেন, “ইউরোপিয়ান ইহুদিদের নরকে জ্বলে মারা দরকার”।
পাকিস্তানের এই মন্তব্যের পর স্বাবাবিক ভাবেই বিশ্ব রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে খোয়াজা আসিফের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রকের দফতর। নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে লেখে, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ইজরায়েলকে নিশ্চিহ্ন করার এই মন্তব্য অত্যন্ত জঘন্য”। শান্তি সমঝোতার মধ্যস্থতাকারি দেশ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে আরও লেখেন, “কোনো সরকারের কাছ থেকেই এমন বক্তব্য সহ্য করা যায় না, বিশেষ করে এমন একটি সরকারের কাছ থেকে তো নয়ই, যারা নিজেদেরকে শান্তির জন্য একটি নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী বলে দাবি করে”। ইজরায়েল সরকারের তরফ থেকে এই মন্তব্য আসার পরই খোয়াজা আসিফ তার উল্লেখ্য পোষ্ট ডিলিট করে দেয়।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ যুদ্ধের পর পাকিস্তান ও চিনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বিরতিতে রাজি হয় ইরান আমেরিকা। এই শান্তি সমঝোতার প্রেক্ষিতে আমেরিকার সমানে ১০টি শর্ত রাখে ইরান। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখার দায়ভার নিতে হবে। প্যালেস্টাইন এবং লেবাননে মার্কিন মুলুক বা তার কোনো মিত্র দেশের আগ্রাসী পদক্ষেপ নিলে তার জবাব দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট করে তেহরান।
অন্যদিকে আমেরিকার যুদ্ধবিরতির সিধান্তকে সমর্থন জানালেও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী জানায় লেবানন এই শান্তিচুক্তির অংশ নয়। তিনি জানান, ইজরায়েলের স্বার্থের উপর আঘাত হানলে তার ফল ভোগ করতে হবে লেবাননকে। ইজরায়েলের হামলায় এখনও পর্যন্ত ২৫০-র বেশি লেবাননের মানুষ মারা গেছে বলে দাবী করেছে সে দেশের সরকার। পাশাপাশি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্টী হিজবুল্লা প্রধান নাইম কামশের ঘনিষ্ট ইউসুফ হাশারিকে হত্যা করে ইজরায়িলি সেনা। এই ঘটনাপ্রবাহ ইরান আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধবিরতিতে প্রাভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে। এর পরবর্তী পদক্ষেপ কি হয় সেদিকে নজর বিশ্ব রাজনীতি মহলের।