নিজস্ব সংবাদদাতা : সমাজজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কৃষি। সেই কৃষির মানোন্নয়নে এবং আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অব অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং কলকাতা এবং ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট,নয়াদিল্লি যৌথভাবে কলকাতার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কসে কৃষি ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বিষয়ক একদিনের একটি কর্মশালার আয়োজন করে। এই কর্মশালায় ডিজিটালি মাটি মানচিত্রায়ন ও মাটির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার তুলে ধরা হয়। এবিষয়ে বিজ্ঞানী অলকেশ ঘোষ এদিনের অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিবরণ দিয়ে বলেন, “বর্তমানে AI প্রযুক্তি সর্বক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাই কৃষি ক্ষেত্রে এর ব্যবহার এবং প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সময় এসেছে। এদিন তাই সেই সকল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই আলোচনা যারা কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন”।

এদিন কর্মশালার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর কৃষি, তথ্যের নিরাপত্তা, ট্রেসেবিলিটি ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি পদ্ধতি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। এর ফলে কৃষকরা প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে বেরিয়ে উন্নততর কৃষি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে পারবেন।

এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বিজ্ঞানী হেনা রয় বলেন, “বর্তমানে কৃষিজ ক্ষেত্রে বর্তমান শিক্ষিত প্রজন্ম এগোতে চাইছে না। সে কারণে অনেকাংশে কৃষি এবং কৃষিজাত প্রক্রিয়ায় খামতি থেকে যাচ্ছে। কীটনাশকের ক্ষেত্রেও যদি কথা বলা হয় তাহলেও তার কার্যকারিতা, পরিমাপ এবং সঠিক প্রয়োগ এগুলি বোঝা একান্তই প্রয়োজন”। এদিন এইসব বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে। এদিনের কর্মশালায় সি-ড্যাকের উদ্যোগে স্বদেশি উদ্যোগে নির্মিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুদীপ শ্রীবাস্তব।
