নিজস্ব সংবাদদাতা : মালদহের ঘটনায় এবার সরব হল কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশন। বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন মঙ্গলবার একটি প্রস্তাব পাস করলো। একই সঙ্গে তাদের একজন সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বার অ্যাসোসিয়েশন।
মঙ্গলবার দুপুরে একটি জরুরি সাধারণ সভায় গৃহীত প্রস্তাবে বার অ্যাসোসিয়েশন ১ এপ্রিল মালদার কালিয়াচকে ঘটে যাওয়া ঘটনাটির বিষয়ে “গভীর উদ্বেগ” প্রকাশ করেছে। সেখানে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন তিনজন মহিলাসহ সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
ঘটনাটিকে একটি “কষ্টকর ও জঘন্য অপরাধমূলক কাজ” বলে আখ্যা দিয়েছে বার অ্যাসোসিয়েশন। তারা জানিয়েছে, বিচার বিভাগের ওপর এমন আক্রমণের মুখে আইন অঙ্গন “অবিচল থাকতে পারে না” এবং এই ঘটনাটিকে রাজ্যজুড়ে “একটি সন্ত্রাসের বার্তা” ছড়ানোর একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ওই প্রস্তাবে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে বলা হয়েছে, “পুলিশ প্রশাসন নিছক দর্শকের মতো আচরণ করেছে এবং প্রায় নয় ঘণ্টা ধরে এই ধরনের বর্বরতা ও লাগামহীন গুন্ডামি চলতে দিয়েছে।”
প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে, বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য অ্যাডভোকেট মোফাক্কেরুল ইসলামকে এই ঘটনার এবং জনতাকে উস্কানি দেওয়ার ঘটনার “প্রধান অপরাধী” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বার অ্যাসোসিয়েশন মোফাক্কেরুলকে অবিলম্বে তাদের সদস্যপদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “এই পরিস্থিতিতে… আমরা সর্বসম্মতিক্রমে ওই অ্যাডভোকেট মোফাক্কেরুল ইসলামকে ফৌজদারি মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের এই সম্মানিত বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।” এতে আরও বলা হয়েছে, তাকে বহিষ্কারের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তার সদস্যপদ বাতিলের জন্য পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে অনুরোধ করা হবে। উদ্বিগ্ন বার অ্যাসোসিয়েশন এও বলেছে, “আমরা পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলকে এই বিপথগামী আইনজীবীর অপরাধমূলক কাজের জন্য তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ করব, যা একজন বিদ্বান আইনজীবীর আদর্শের পরিপন্থী।”
এদিকে, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)-কে মালদা পর্বের তদন্তভার গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর একটি স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন এবং এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ১২টি এফআইআর-এর সবকটি তদন্ত করার জন্য সন্ত্রাসবিরোধী সংস্থাটিকে নির্দেশ দেয়।
শীর্ষ আদালত আরও অনুমতি দিয়েছে যে, যদি কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বেরিয়ে আসে, তবে এনআইএ অতিরিক্ত এফআইআর দায়ের করতে পারবে। আদালতকে পর্যায়ক্রমিক ভাবে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তদন্তকারী সংস্থা এনআইএকে সমস্ত প্রমাণ হস্তান্তর করতে ও পূর্ণ সহযোগিতা করতে বলেছে রাজ্য পুলিশকে। শীর্ষ আদালত এর আগে এই ঘটনাটিকে বিচার বিভাগকে ভয় দেখানোর একটি “নির্লজ্জ প্রচেষ্টা” বলে আখ্যা দেয়।