ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্যের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ন্যূনতম পরিকাঠামো ও মৌলিক পরিষেবা নিশ্চিত করার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্কের সূচনা হয়েছে। সম্প্রতি দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে রাজ্যের উচ্চ আদালত স্পষ্টভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চেয়েছে, রাজ্যের বুথগুলিতে ভোটারদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আদৌ রয়েছে কি না এবং এ বিষয়ে কমিশন কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আদালত কমিশনকে এ বিষয়ে বিস্তারিত হলফনামা আকারে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্যের বহু গ্রামীণ ও শহরতলির ভোটকেন্দ্রে এখনও বিদ্যুৎ, পানীয় জল, শৌচাগার কিংবা বয়স্ক ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য র্যা ম্পের মতো প্রাথমিক ব্যবস্থাও নেই। ভোটের দিনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে প্রবীণ, নারী ও শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত ভোটারদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করতে হলে এই মৌলিক পরিকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি বলেই আবেদনকারীর পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ শুনানির সময় জানায়, ভোটাধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সেই অধিকার প্রয়োগের সময় ভোটারদের ন্যূনতম সুবিধা না পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে, তারা কীভাবে বুথগুলির অবস্থা পর্যালোচনা করে এবং ঘাটতি চিহ্নিত হলে কী ব্যবস্থা নেয়। আদালত আরও ইঙ্গিত দেয়, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশ জারি করা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বুথের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ সরাসরি কমিশন করে না। সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসন বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা করা হয়। তবে কমিশন নিয়মিতভাবে রিপোর্ট সংগ্রহ করে এবং যেখানে সমস্যা থাকে, সেখানে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়। আদালত এখন সেই প্রক্রিয়া ও বাস্তব চিত্র সম্পর্কে লিখিতভাবে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।
