নিজস্ব সংবাদদাতা: বুধবার সন্ধেয় কবি সুভাষ মেট্রো স্টেশনের একটি পিলারে ফাটল নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পিলারের গায়ে ধরা সেই ফাটলের জেরে আপাতত বন্ধ কবি সুভাষ স্টেশন। যার জেরে যাত্রীদের এক বড় অংশ সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফাটলের পেছনে সম্ভাব্য একাধিক কারণের মধ্যে ‘আনইভন সেটলমেন্ট’অর্থাৎ নির্মাণের এক পাশে ভূমি বসে যাওয়া নিয়ে আশঙ্কা জানানো হয় সেই প্রতিবেদনে। পরে রাতে মেট্রো রেলের তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়, ঘটনাটি ‘আনইভন সেটলমেন্ট’-এর ফলেই ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে যাত্রীদের আশ্বস্ত করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনই সময়সূচিতে কোনও পরিবর্তন আসছে না। যেভাবে এত দিন ট্রেন চলেছে, তেমন ভাবেই চলবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বড় পরিবর্তন একটাই এখন আর কোনও মেট্রো কবি সুভাষ পর্যন্ত যাবে না। দক্ষিণেশ্বর থেকে আগত ট্রেনের শেষ স্টেশন হবে শহিদ ক্ষুদিরাম।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই উঠেছে নানা প্রশ্ন। কারণ, শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন ঐ রুটের শেষ স্টেশনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এখনও নেই। কবি সুভাষে যেমন মেট্রো যাত্রী নামিয়ে সামান্য এগিয়ে গিয়ে লাইন পরিবর্তন করে ফিরে যেত আপ প্ল্যাটফর্মে, সেই পরিকাঠামো শহিদ ক্ষুদিরামে নেই। দক্ষিণেশ্বরেও জায়গার অভাবে এই ব্যবস্থাটি করা যায়নি। ফলে শহিদ ক্ষুদিরাম বন্ধ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ডাউন লাইনে আসা ট্রেন কী ভাবে ঘুরে ফিরে আসবে আপ লাইনে?
এই নিয়ে মেট্রো রেলের ব্যাখ্যা, আপাতত ঠিক হয়েছে দক্ষিণেশ্বর-দমদম থেকে আসা ট্রেন শহিদ ক্ষুদিরামে যাত্রী নামিয়ে কবি সুভাষের দিকেই এগিয়ে যাবে। তার পর সেই ট্রেনই কবি সুভাষে না থেমে আপ লাইনে উঠে শহিদ ক্ষুদিরামে ফিরে আসবে এবং সেখান থেকেই ফের উল্টোদিকে রওনা দেবে। ফলে পরিষেবায় কোনও বড়সড় ব্যাঘাত ঘটবে না বলে আশ্বাস মিলছে, যদিও প্রকৃত পরিস্থিতি এখন নির্ভর করছে এই সাময়িক ব্যবস্থার উপর কতটা দক্ষতার সঙ্গে মেট্রো রেল তা রূপায়ণ করতে পারে তার উপর।
