ওঙ্কার ডেস্কঃ তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর ঝুট ঝামেলায় বিধানসভায় তুলকালাম। কুণাল-আখরুজ্জামানের ‘সংঘাতে’ উত্তপ্ত বিধানসভা অধিবেশন। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষকে মার্শাল ডেকে বাইরে বার করে দেওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এমন অসভ্যতা দেখিনি। তীব্র নিন্দা জানাই।”
বিধানসভায় বিরোধীদল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঋতব্রতের দল। মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান। সূত্রের খবর, আখরুজ্জামান বলতে শুরু করলে তাঁকে বাধা দেয় কুণাল ঘোষ। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করতে উঠেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ করেন মন্ত্রী শংকর ঘোষ, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়রা। তারপরই কুণালকে মার্শাল ডেকে বার করে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন স্পিকার।
কালীঘাটের তৃণমূলদের বলতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, যে লিস্ট পাঠানো হচ্ছে, তাতে কুণাল ঘোষের নাম থাকলেও মুখ্য সচেতক সেই নাম কেটে দিচ্ছেন। আগেই এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। দ্বিতীয়ার্ধে আখরুজ্জামান বলতে উঠলে তাঁকে বাধা দেন কুণাল ঘোষ। পরে আখরুজ্জমান বলেন, “৮০ জন বিধায়ক রয়েছে। সবাইকে বলতে দিলে সময় হবে না।
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এমন অসভ্যতামি বিধানসভায় আগে দেখিনি। বিরোধী দলে ছিলাম। এখন শাসকদলে। এটা খুবই নিন্দাজনক। আখরুজ্জামান আগে মন্ত্রী ছিলেন। উনার বাবা হাবিবুর রহমান মুর্শিদাবাদের সন্মানীয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আখরুজ্জামান সাহেবকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। এমন ঘটনার তীব্র নিন্দা করি।”
এরপরই বিধানসভায় ৩৪৮/২ ধারায় নোটিস দিয়ে গোটা অধিবেশনের জন্য কুণাল ঘোষকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব দেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। বলেন, “অকারণে অনৈতিকভাবে বিরোধী চিফ হুইপকে আক্রমণ করতে গিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। এর আগে আমি এই রকম দেখিনি।”