ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং জবাবদিহিমূলক করতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যভবনে গড়ে তোলা হয়েছে অত্যাধুনিক ২৪×৭ সেন্ট্রাল মনিটরিং কন্ট্রোল রুম। বৃহস্পতিবার সেখানে আচমকাই পরিদর্শনে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কন্ট্রোল রুমে উপস্থিত স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তিনি এবং সেখান থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।
এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ, জেলা হাসপাতাল এবং অন্যান্য সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লাইভ সিসিটিভি ফুটেজ একসঙ্গে দেখা সম্ভব। জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, রোগী ভর্তি, শয্যার প্রাপ্যতা, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা পরিষেবার মান এবং রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা ঠিকভাবে পৌঁছচ্ছে কি না, সেই সমস্ত বিষয়ের উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। কোথাও কোনও অনিয়ম, অব্যবস্থা বা পরিষেবায় ঘাটতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
পরিদর্শনের সময় মুখ্যমন্ত্রী একাধিক হাসপাতালের লাইভ দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করেন। বিভিন্ন হাসপাতালের পরিস্থিতি সম্পর্কে আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন এবং পরিষেবা আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা সাধারণ মানুষ যাতে কোনও ধরনের হয়রানি বা অযথা ভোগান্তির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই কারণে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও কার্যকর ও মানুষের কাছে সহজলভ্য করে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কন্ট্রোল রুমে হাসপাতালগুলির শয্যার সংখ্যা, রোগী ভর্তি ও ছাড়পত্রের তথ্য, জরুরি পরিষেবার অবস্থা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্যও রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যায়। ফলে কোনও হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে বা কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রোগীদের অভিযোগ বা পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ মিলবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক হাসপাতালে ট্রমা কেয়ার ইউনিট খোলার আশ্বাসও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সরকারের দাবি, এই কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে হাসপাতালগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়বে এবং পরিষেবার মান উন্নত হবে। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও আরও গতিশীল হবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ এবং রোগীকেন্দ্রিক করে তোলার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে রাজ্য সরকার।