ওঙ্কার ডেস্ক: ধর্মতলায় সিজেপির ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মামলার শুনানিতে আদালতে গুরুত্বপূর্ণ দাবি করল রাজ্য। সরকারি কৌঁসুলির বক্তব্য, গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত চারজন ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’ বা অভ্যাসগত অপরাধী। অতীতে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ-সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁদের নাম জড়িয়েছে বলেই আদালতে দাবি করা হয়।
শুনানির সময় সরকারি পক্ষ আদালতকে জানায়, বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে বাধা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটানো, বিশৃঙ্খলা তৈরি ও জনশৃঙ্খলা নষ্ট করার মতো অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনায় একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে ধৃতদের অতীত অপরাধের নথি খতিয়ে দেখে চারজনের বিরুদ্ধে একাধিক পুরনো মামলা থাকার তথ্য উঠে এসেছে বলে আদালতে দাবি করেন সরকারি কৌঁসুলি। সেই কারণেই তাঁদের জামিন দেওয়া হলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে এবং তাঁরা পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও রাজ্যপক্ষের তরফে জানানো হয়। অন্যদিকে অভিযুক্তদের আইনজীবীরা সরকারি পক্ষের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁদের দাবি, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে মামলা থাকলেই তাঁকে অভ্যাসগত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। বর্তমান মামলার সঙ্গে সেই অভিযোগগুলির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা আদালতের বিচার্য বিষয়। শুধুমাত্র অতীতের অভিযোগকে সামনে রেখে জামিনের বিরোধিতা করা আইনসঙ্গত নয় বলেও তাঁরা যুক্তি দেন। পাশাপাশি তাঁদের দাবি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ এখনও আদালতে পেশ করা হয়নি এবং তাঁদের অযথা হেফাজতে রাখা হচ্ছে।
দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত তদন্তের অগ্রগতি এবং মামলার নথি বিবেচনা করে পরবর্তী শুনানির জন্য নির্দেশ দেয়। তদন্তকারী সংস্থা এখনও ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে এবং বিক্ষোভ চলাকালীন ঠিক কী পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছিল, তাও বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ধর্মতলায় ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই মামলাতেই আদালতে রাজ্যপক্ষের তরফে ধৃতদের মধ্যে চারজনকে ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’ বলে দাবি করা হয়, যা শুনানিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসে।