ওঙ্কার ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পক্ষ থেকে টাটা মোটরসকে প্রায় ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের একক বেঞ্চ বৃহস্পতিবার জানায়, আগামী আট সপ্তাহ পর্যন্ত সালিশি ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ কার্যকর করা যাবে না। পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট অঙ্কের ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত টাটা মোটরসকে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত থাকছে।
সিঙ্গুর ইস্যু পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও শিল্প ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৬ সালে হুগলির সিঙ্গুরে ‘ন্যানো’ তৈরির কারখানা গড়ার জন্য প্রায় এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। সেই সময় শিল্পায়নের স্বার্থে এই প্রকল্পকে রাজ্যের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের একাংশের প্রবল আপত্তি ও রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ আন্দোলন, বিক্ষোভ এবং অনিশ্চয়তার আবহে ২০০৮ সালে টাটা মোটরস সিঙ্গুর প্রকল্প গুটিয়ে গুজরাটের সানন্দে কারখানা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার শেষে ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণকে বেআইনি ঘোষণা করে। আদালত জানায়, কৃষিজমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সঠিকভাবে মানা হয়নি। একইসঙ্গে জমি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই রায়ের পর বহু কৃষক নিজেদের জমি ফিরে পান।
টাটা মোটরস দাবি করে, প্রকল্প বাতিল হওয়া এবং কারখানা সরিয়ে নেওয়ার কারণে সংস্থার বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষতিপূরণের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমের বিরুদ্ধে সালিশি ট্রাইব্যুনালে মামলা করে টাটা মোটরস। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তিন সদস্যের সালিশি ট্রাইব্যুনাল টাটা মোটরসের পক্ষে রায় দেয়। ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেয়, প্রায় ৭৬৫.৭৮ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে অর্থপ্রাপ্তির দিন পর্যন্ত ১১ শতাংশ হারে সুদও ধার্য করা হয়।
এই রায়ের বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। রাজ্যের দাবি ছিল, ট্রাইব্যুনালের রায়ে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। সেই আবেদনের শুনানিতেই এবার আট সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। ফলে আপাতত রাজ্য সরকারকে ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে হচ্ছে না। তবে মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে রাজনৈতিক ও শিল্প মহলের নজর থাকবে।