ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী তথা দলের বর্ষীয়ান নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের সিদ্ধান্তকে ঘিরে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী-সহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মেট্রোপলিটন ভবনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ভূমিকা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আনুগত্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা যায়। সেই ঘটনাতেই গভীরভাবে আঘাত পান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এরপরই তিনি সাংগঠনিক সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
নিজের ইস্তফাপত্রে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি নিষ্ঠা, সততা এবং সম্পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দলের হয়ে কাজ করেছেন। দলের নির্দেশ মেনেই প্রতিটি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কখনও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনও কাজ করেননি। সম্প্রতি তাঁকে রাজ্য সভানেত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং সেই দায়িত্বও তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছেন। চন্দ্রিমা আরও দাবি করেছেন, যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে তিনি উপস্থিত থাকলেও কোনও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ ছিল না। তা সত্ত্বেও তাঁর আনুগত্য নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা তাঁকে অত্যন্ত মর্মাহত করেছে। তাঁর বক্তব্য, যখন দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বই তাঁর প্রতি আস্থা হারিয়েছেন বলে তিনি অনুভব করছেন, তখন সাংগঠনিক পদে থেকে কাজ করার নৈতিক ভিত্তি আর অবশিষ্ট নেই। সেই কারণেই তিনি সমস্ত সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঋতব্রতপন্থীদের সঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
ইস্তফাপত্রে তিনি আরও জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক আনুগত্য আজও অটুট। তবে এই ঘটনার পর তিনি আর কালীঘাটে গিয়ে কোনও সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে চান না বলেও স্পষ্ট করেছেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উপলব্ধি থেকেই নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেত্রী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের সময় তাঁকে রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে তাঁর এই পদত্যাগকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।