ওঙ্কার ডেস্ক: বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় শনিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানায় হাজিরা দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) নেতা হুমায়ুন কবীর। পুলিশি তলবের পর নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই তিনি থানায় পৌঁছে যান। থানায় ঢোকার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন দাবি করেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলে আরও ১০০ থেকে ১২০ জন দলীয় কর্মী স্বেচ্ছায় গ্রেপ্তার দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। তাঁর কথায়, সেই তালিকাও ইতিমধ্যেই তৈরি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন রেজিনগরে এজেইউপির একটি জনসভা থেকে বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার পর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কড়া অবস্থান নেওয়া হয় এবং হুমায়ুনের বিরুদ্ধে রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে পুলিশ। এর আগে শক্তিপুর থানার ওসিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় শুক্রবার তাঁকে শক্তিপুর থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি সেখানে উপস্থিত হননি। এরপর শনিবার রেজিনগর থানায় বিতর্কিত মন্তব্য সংক্রান্ত মামলায় হাজিরা দেন তিনি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর এই ঘটনায় আগেই এজেইউপির তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, রেজিনগরের ওই বিতর্কিত সভার আয়োজনের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত ছিলেন। শনিবার হুমায়ুন কবীরের থানায় হাজিরাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রেজিনগর থানার আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। থানার বাইরে এবং সংলগ্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হয়। অন্যদিকে, রেজিনগর থানার কাছেই এজেইউপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই বহু কর্মী-সমর্থক জড়ো হন। সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। হুমায়ুন কবীরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকে এখন রাজনৈতিক মহল এবং প্রশাসনের নজর রয়েছে।