ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ থেকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ইস্তফাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর কখনও বিজেপি কখনও নিজের দলের অন্দরেই মার খেয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেরেছেন একদা মমতা ঘনিষ্ট একাধিক বিধায়ক, সাংসদ এবং মন্ত্রীরা। গতকাল, অর্থাৎ শনিবার মমতার কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। জানা গেছে মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবন ঘিরে মনমালিন্যের জেরেই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল মমতা-চন্দ্রিমার। সেই অবিশ্বাসের কারণেই দল ছেড়েছেন চন্দ্রিমা। ছেলে সৌরভ বসুর সঙ্গে ঋতব্রত-তৃণমূলে যাবেন কিনা এখন সেনিয়ে সংশয় রাজ্য রাজনীতিতে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, গত কয়েক সপ্তাহে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিধায়ক সাংসদেরা দল ছাড়ার পর পুরো কালীঘাট তৃণমূলকে ঢেলে সাজিয়েছেন মমতা। দলের প্রথম সারির বহু নেতার ভূমিকা বদলেছে, আবার কেউ কেউ সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরেও সরে গিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের গুরুত্বও আগের তুলনায় কমে এসেছিল বলে আলোচনা রয়েছে। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলালেও সাম্প্রতিক সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়েছিল। সেই কারণেও তাঁর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ইস্তফার পর বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে চন্দ্রিমার সাক্ষাৎ রাজনৈতিক জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি কি নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে এগোচ্ছেন? অন্যদিকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ছেলে সৌরভ বসু আগেই ঋতব্রতদের দলে নাম লিখিয়েছিলেন। যদিও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এখনও কোনও নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেননি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কেও প্রকাশ্যে কিছু জানাননি।
এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন তৃণমূল শিবিরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে দূরে সরে যাওয়া কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কেউই এই সম্ভাবনা নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। ফলে বিষয়টি পুরোপুরি রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।