ওঙ্কার ডেস্ক: ক্ষমতায় আসার আগে বিজেপির বিরুদ্ধে বার বার বলা হয়েছিল তাঁরা ক্ষমতায় এলে বাঙালির পাত থেকে সরে যাবে চির পরিচিত মাছ ভাত। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরে তার উল্টো ঘটছে। ১৩ মে ছিল বিধানসভায় ছিল সকল বিধায়কদের শপথ গ্রহণ। আর এই ভরপুর বাঙালিয়ানা উদ্যাপনের উদ্যোক্তা প্রোটেম স্পিকার তথা মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। বিধায়কদের মধ্যাহ্নভোজে মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়েছে, বলে জানান প্রটেম স্পিকার তাপস রায়। আর তা দিয়ে ভাত মেখে খাচ্ছেন সব বিধায়করা। মাছের পেটি, থেকে মাছের গাদা মন ভরে খাচ্ছেন সবাই। তবে বিধানসভার আগেও মাছ-ভাতের আয়োজন করা হয়েছিল সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে। ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা হতেই সেখানে মাছ-ভাত খাওয়ানো হয়। বার বার মেনুতে মাছ রেখে বিজেপি এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, তারা মাছ, মাংসের বিরোধী নয়। যে অভিযোগ তুলে তাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বতন শাসকদল তৃণমূল বার বার সরব হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ভোটের প্রচারেও বার বার এই কথাই বলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তা হলে বাঙালির অস্মিতা ধ্বংস হয়ে যাবে। রাজ্যে মাছ, মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
কিন্তু তৃণমূল সরকারের সেই কথা কে সম্পূর্ণ ধুলতে উড়িয়ে দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা। ভোটের সময় তাই বিজেপি প্রার্থীদের অনেককেই মাছ নিয়ে প্রচার করতে দেখা গিয়েছে। আর তার মাধ্যমেই বার্তা দেওয়া হয় যে, বিজেপির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা মোটেই ঠিক নয়। বিজেপি বাঙালিবিরোধী নয়। বাংলার সংস্কৃতিবিরোধী নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ভোটের প্রচারে এসে মাছের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। বিজেপির বিরুদ্ধে পূর্বতন শাসকদল যে মাছবিরোধী তকমা জুড়ে দিয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পরে সেই মাছ-ভাতের আয়োজন করেই বিজেপি বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে যে, তারা কখনওই মাছ-ভাতের বিরোধী নয়।