ওঙ্কার ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ফের ছোট বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে একটি দু’সিটার প্রশিক্ষণ বিমান উড়ানের সময় আচমকাই প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়ে এবং জরুরি অবতরণের চেষ্টা করতে গিয়েই ভেঙে পড়ে। বিমানটি রেডবার্ড ফ্লাইট ট্রেনিং অ্যাকাডেমির বলে জানা গিয়েছে। নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বিমানটি আকাশে উঠেছিল। কিন্তু উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে, যার ফলে পাইলট দ্রুত বিমান নামানোর সিদ্ধান্ত নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিমানটি নিচে নামার সময় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত মাটিতে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ধোঁয়া দেখা যায় এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত উদ্ধারকারী দল, পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। বিমানে থাকা প্রশিক্ষক ও শিক্ষানবিশ পাইলটকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।
এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কারণ মাত্র চার মাস আগেই একই বারামতি এলাকায় আরেকটি মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই অঞ্চলে বিমান ভেঙে পড়ায় বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন, স্থানীয় পুলিশ এবং বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছেন। প্রাথমিকভাবে প্রযুক্তিগত ত্রুটিকেই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তবে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ বিমান চলাচল হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পরপর বিমান দুর্ঘটনা প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা ছোট বিমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রশাসন এখন তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায়।