ওঙ্কার ডেস্ক: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফের সামনে এল বিস্ফোরক অভিযোগ। নিহত চিকিৎসকের দেহ থেকে সংগ্রহ করা ভিসেরা নমুনা রাজ্য ফরেন্সিক পরীক্ষাগারেই নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন এক ফরেন্সিক আধিকারিক। শুধু তাই নয়, ওই নমুনা নষ্ট করার নির্দেশ তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফ থেকেই এসেছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে।
জানা গিয়েছে, ওই ফরেন্সিক আধিকারিক একটি লিখিত চিঠির মাধ্যমে নিহত চিকিৎসকের বাবাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, তরুণী চিকিৎসকের শরীর থেকে সংগ্রহ করা ভিসেরা নমুনা বদলে ফেলা হয় এবং পরে তা সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবের তিনজন আধিকারিক এই কাজে যুক্ত ছিলেন। পরে যে নমুনা কেন্দ্রীয় ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়, সেটি আসল নমুনা ছিল না বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই চিঠি হাতে পাওয়ার পর নিহত চিকিৎসকের পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিঠিটি শিয়ালদহ আদালতের বিচারকের কাছে জমা দেওয়ার বিষয়ে তাঁরা ভাবছেন। পাশাপাশি তাঁদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হোক। পরিবারের বক্তব্য, এত গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র এই মামলাই নয়, অতীতে আরও কয়েকটি মামলায় বিভিন্ন ব্যক্তির ভিসেরা নমুনা নষ্ট বা বদলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে ফরেন্সিক প্রমাণ সংরক্ষণ ও পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ভিসেরা পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে বিষক্রিয়া ছিল কি না, ঘুমের ওষুধ বা অন্য কোনও রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা সম্ভব হয়। এজন্য লিভার, কিডনি এবং পাকস্থলীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ নমুনাগুলিই ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তদন্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের এক তরুণী চিকিৎসক নাইট ডিউটির সময় হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। তদন্তে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসে। প্রথমে কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।