ওঙ্কার ডেস্ক: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬-এ পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন একাধিক শ্রমিক। দুর্ঘটনার পর থেকেই ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে প্রশাসন। টানা রাতভর চলা উদ্ধার অভিযানের পর বৃহস্পতিবার সকালেও ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, দমকল, কলকাতা পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যান। বিশাল কংক্রিটের স্ল্যাব, লোহার বিম এবং ভেঙে পড়া কাঠামো সরাতে ব্যবহার করা হয় ভারী ক্রেন ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। ধ্বংসস্তূপের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সরিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে আর কেউ আটকে থাকলে দ্রুত উদ্ধার করা যায়।
ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহেরা সহ আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন গুদাম নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত সুপারভাইজার এবং শ্রমিক সরবরাহকারী সংস্থার প্রতিনিধিরাও। তাঁদের বিরুদ্ধে অবহেলা, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং মৃত্যুর কারণ হওয়ার মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান, অনুমোদন সংক্রান্ত নথি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে রাজ্য সরকার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। এই সিট নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া, নকশাগত ত্রুটি, নির্মাণ সামগ্রীর গুণমান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখবে। দুর্ঘটনার নেপথ্যে কোনও গাফিলতি বা বেআইনি কার্যকলাপ ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রশাসনিক আধিকারিকরা উদ্ধারকাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। আহতদের SSKM হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে শহরের অন্যান্য নির্মীয়মাণ বড় প্রকল্পগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘিরে নির্মাণ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কীভাবে একটি বিশাল নির্মীয়মাণ গুদাম মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুত প্রকৃত কারণ সামনে আনা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।