ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তির আঁচ গোটা বিশ্ব বানিজ্যে পড়ছে। ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে আমদানি-রফতানী ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক বন্দর গুলিতে আটকে রয়েছে শ’য়ে শ’য়ে কনটেনার। পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার জেরে পূর্ব ভারতের রফতানি বাণিজ্যেও বড় ধাক্কার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে, যার ফলে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবহণ খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কলকাতা-সহ পূর্বাঞ্চলের একাধিক শিল্প ও রফতানিকারক সংস্থার ওপর।
শিল্পমহলের সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইউরোপ ও আমেরিকার মতো দূরবর্তী বাজারে পণ্য পাঠাতে এখন অনেক বেশি সময় লাগছে। আগে যে পথে জাহাজ সহজেই গন্তব্যে পৌঁছত, এখন সেই পথ এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে। বিশেষ করে আফ্রিকা ঘুরে যেতে হওয়ায় সময় যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে জ্বালানি খরচ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ‘ওয়ার সারচার্জ’, যা সামগ্রিক পরিবহণ ব্যয়কে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই রফতানি আর লাভজনক থাকছে না।
এই পরিস্থিতিতে কলকাতা বন্দর এলাকায় তৈরি হয়েছে জটিলতা। বহু রফতানি কনটেনার বন্দরে পৌঁছনোর পরেও শেষ মুহূর্তে অর্ডার বাতিল হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেগুলি ফেরত পাঠাতে হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবহণে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে। অন্যদিকে, এলপিজি-র ঘাটতি উৎপাদন ব্যবস্থাকেও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের একাধিক ক্ষেত্রে উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে এলপিজি ব্যবহৃত হয়। সেই সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় উৎপাদনের গতি কমে গিয়েছে। এর ফলে সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, এবং অনেক ক্ষেত্রেই নতুন অর্ডারও কমে আসছে।
এছাড়া কনটেনারের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শিপিং সংস্থাগুলির একাংশ নতুন বুকিং নিতে অনীহা দেখাচ্ছে, আবার কোথাও ভাড়ার নির্দিষ্টতা নেই। এর ফলে রফতানিকারকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। জ্বালানি সংকট, পরিবহণ ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত এই তিনটি বড় কারণ মিলিয়ে পূর্ব ভারতের রফতানি খাত বর্তমানে গভীর চাপে রয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এর প্রভাব শিল্প, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর আরও গভীরভাবে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।