ওঙ্কার ডেস্ক: যোগ দিবস উপলক্ষে দুইদিনের বঙ্গ সফরে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার বিকেলে তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করে আসবেন কলকাতায়। রবিবার রেড রোডে অনুষ্ঠিত হবে যোগদিবসের কর্মসুচি। এই কারণে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। উল্লেখ্য যোগদিবস উপলক্ষে ৭ দিন বন্ধ থাকবে রেড রোড, টা আগেই জানিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিন সকাল থেকেই রেড রোড এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। রেড রোড, কুইন্সওয়ে, হসপিটাল রোড, খিদিরপুর রোড, লাভার্স লেন, ক্যাসুরিনা অ্যাভিনিউ-সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় প্রয়োজন অনুযায়ী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ভিভিআইপি কনভয় চলাচলের সময় কিছু রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হতে পারে।
নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের কেন্দ্রস্থলের একাধিক এলাকায় পার্কিংয়ের উপরও বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাস্তার ধারে কোনও যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার অনুমতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ট্র্যাফিক পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে পুরো এলাকায়। সন্দেহজনক কোনও বস্তু বা যানবাহন নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের শহরে প্রবেশ ও চলাচলের উপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ট্র্যাফিকের চাপ কমাতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের চলাচল সীমিত রাখা হবে। বিকল্প রুট ব্যবহারের জন্য আগাম পরিকল্পনাও তৈরি করেছে ট্র্যাফিক বিভাগ।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ের গতিপথে থাকা বিভিন্ন মোড় এবং সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে প্রয়োজন অনুযায়ী ট্র্যাফিক ডাইভারশন করা হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী যানবাহনকে অন্য রাস্তায় ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। যাত্রীদের যাত্রার আগে ট্র্যাফিক সংক্রান্ত আপডেট জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রেড রোডে হাজার হাজার মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে শুধু নিরাপত্তাই নয়, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জরুরি পরিষেবার নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কলকাতা কার্যত উচ্চ সতর্কতার আওতায় চলে এসেছে। প্রশাসনের আশা, পরিকল্পিত ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও যতটা সম্ভব কমিয়ে রাখা যাবে।