নিজস্ব সংবাদদাতা, দমদম : ঘন কুয়াশার কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার তাহেরপুরে সভাস্থলে নামতে পারলো না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হেলিকপ্টার। দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণে ভেস্তে গেল প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি। হেলিকপ্টার ফিরে এল দমদম বিমানবন্দরে। তাহেরপুর জনসভা স্থল থেকে বিজেপির কর্ম্নকর্তারা জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার কিছুক্ষণ তাহেরপুরের হেলিপ্যাডের উপর পাক খেয়ে ইউটার্ন নেয়।“
এরপর প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার ফিরে আসে দমদম বিমানবন্দরে। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলে। আবহাওয়া পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত, নাকি সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রী রওনা দেবেন তা নিয়ে চলে একপ্রস্থ আলোচনা। অবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিমানবন্দর থেকেই ভার্চ্যুয়াল সভা করবেন মোদী।
নদিয়া জেলার তাহেরপুরে প্রায় একশ কিলোমিটার দূরে পূর্বনির্ধারিত সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী সকাল ১০টা ৪০-এ কলকাতায় পৌঁছেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল তাহেরপুরে হেলিকপ্টারে করে যাওয়ার,সেখানে রাজ্যে হাইওয়ে প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরপর পরিবর্তন সংকল্প সভা নামে একটি বিজেপির সমাবেশের আয়োজন করার কথা ছিল, যেখানে তিনি ভাষণ দেবেন।
এদিকে নদিয়ার তাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই রীতিমত উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সভাস্থলে পৌঁছোনোর আগেই বহু জায়গায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অন্যদিকে সভায় যোগ দিতে যাওয়া বিজেপি নেতা-কর্মীদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।
বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা থেকে তাহেরপুরের উদ্দেশে আসা বিজেপির নেতাকর্মীদের এদিন ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর–বেলডাঙা থানার মধ্যবর্তী এলাকায় তাঁদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, ওই এলাকায় পুলিশ ভ্যান দাঁড় করিয়ে উদেশ্যপ্রণোদিত ভাবে রাস্তা জ্যাম করে দেয়। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় মহাজনের অভিযোগ, বহরমপুর থেকে কলকাতাগামী মূল সড়কে পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে সভায় যোগ দিতে যাওয়া কর্মীরা আটকে পড়েন। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর সভায় যেতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এটি একটি সাজানো ঘটনা। তাহেরপুরের সভাস্থলেও তুমুল বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি করে একদল কর্মী সমর্থক। পরিস্থিতি সামাল দিতে মঞ্চ থেকে বারবার সকলকে শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। সভাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক তরজা আরও উসকে দিয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, প্রশাসনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিন সকাল ১০টা ৩৩ মিনিটে কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজ্যের তরফে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমান বন্দরে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। এরপরই সেখান থেকে নদিয়ার তাহেরপুরের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
