ওঙ্কার ডেস্ক: আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রায় দু’বছর পর নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নিল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যের নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় শনিবার জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা এই ঘটনায় পৃথক ভাবে তদন্ত করবেন। সেই তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও ফলাফল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে জানানো হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের এই তদন্তের মূল লক্ষ্য শুধু ঘটনার রাতের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা নয়, বরং ঘটনার আগে এবং পরে হাসপাতালের ভিতরে কী ঘটেছিল, সেই বিষয়গুলিও বিস্তারিত ভাবে পরীক্ষা করা। ওই রাতে জরুরি বিভাগের আশপাশে বা ঘটনাস্থলে যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নির্যাতিতার অধ্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলবেন স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা। ঘটনার সময়ে হাসপাতালের পরিকাঠামোয় কী ধরনের ঘাটতি ছিল এবং পরবর্তী সময়ে সেই ঘাটতিগুলি কী ভাবে পূরণ করা হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ছিলেন তরুণী চিকিৎসক। পরের দিন সকালে হাসপাতালের সেমিনার রুম থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয় এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রথমে কলকাতা পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। সিবিআইয়ের চার্জশিটে সঞ্জয় রায়কেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়।
পরবর্তীতে শিয়ালদহ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। তবে তদন্তের একাধিক বিষয় নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল নির্যাতিতার পরিবার। ঘটনার রাতের ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ওই রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে কয়েক জন জুনিয়র চিকিৎসক রাতের খাবার খেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের সঙ্গে তৎকালীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ ছিল বলেও পরিবারের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পরিবারের আইনজীবী দাবি করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্তত এক জনের বয়ান যথাযথ ভাবে রেকর্ড করা হয়নি। এই বিষয়গুলিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছিল। পরিবারের তরফে অভিযোগ ছিল, ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তার সমস্ত দিক যথাযথ ভাবে তদন্ত করা হয়নি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি ফের আদালতে গড়ায়। কলকাতা হাই কোর্ট সিবিআইকে তদন্ত নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয় এবং একটি বিশেষ তদন্তকারী দলও গঠন করা হয়। সম্প্রতি সেই বিশেষ তদন্তকারী দল আদালতে রিপোর্ট জমা দেয়। কিন্তু রিপোর্ট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। তদন্ত পুরনো তদন্তের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয় বলেও পর্যবেক্ষণ করা হয়।