ওঙ্কার ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ পাওয়ার পর অবশেষে শনিবার সিআইডির দফতরে হাজিরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। শালবনিতে জমি সংক্রান্ত অভিযোগের মামলায় শনিবার ভবানী ভবনে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব চলে। পরে রাত ৮টা নাগাদ সিআইডি দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে রওনা দেন। তদন্ত সূত্রে খবর, রবিবারও তাঁকে ফের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।
শালবনি থানায় সরকারি জমি সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সুমিতের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। মামলায় প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, জাল নথি তৈরি, জাল নথি ব্যবহার এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মতো একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সরকারি জমি বেআইনি ভাবে হস্তান্তরের ঘটনায় জাল নথি ব্যবহারের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই মামলার তদন্তভার পরে সিআইডির হাতে যায়। এই মামলায় গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন সুমিত। তবে কলকাতা হাই কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। গত ৬ অগস্ট শীর্ষ আদালত তাঁর গ্রেফতারির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়। ফলে আপাতত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। তবে তদন্তে তাঁকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা যখনই তাঁকে তলব করবে, তখনই তাঁকে হাজির হতে হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাঁকে তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত থাকতে হবে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর সঙ্গে কোনও আইনজীবী বা অন্য কোনও ব্যক্তিকে রাখার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের পরই সুমিতকে হাজিরার নোটিস পাঠায় সিআইডি। শুক্রবার তাঁর নিউ আলিপুরের বাড়িতে গিয়ে তদন্তকারীরা নোটিস দিয়ে আসেন। শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে ভবানী ভবনে হাজির হতে বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সিআইডির দফতরে পৌঁছে যান তিনি। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ। তদন্তকারীরা জমি সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি মামলায় উঠে আসা বিভিন্ন তথ্য ও নথি নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেন বলে জানা গিয়েছে। সরকারি জমির মালিকানা ও হস্তান্তর, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং অভিযোগের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর। দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক বিষয়ে তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।