ওঙ্কার ডেস্কঃ ধর্মতলায় ২১ জুলাই কি তবে এবার অতীত হতে চলেছে! কলকাতা পুলিশের নোটিসে সেই সম্ভাবনাই প্রবল হচ্ছে। ২১ জুলাই সভা করা নিয়ে দুই তৃণমূলের তরফ থেকেই পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার দুই শিবিরের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা পুলিশ।
ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আর কোনও জনসভা করা যাবে না। পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, ভিক্টোরিয়া হাউস এবং তার চারপাশে আগেকার ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি থাকে। অর্থাৎ বর্তমানের ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী এখানে জমায়েত করা নিষিদ্ধ। তাই ২১ জুলাই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি পাবে না কেউ। সূত্রের খবর, পুলিশের এই বার্তার পর বিকল্প স্থান খুঁজতে শুরু করেছে কালীঘাট তৃণমূল।
২১ জুলাই দিনটি তৃণমূল কংগ্রেস বরাবর মেগা ইভেন্ট হিসেবে পালন করে থাকে। ১৯৯৩ সালের তখনকার যুব কংগ্রেস কর্মীদের মহাকরণ অভিযানে তৎকালীন সরকারপক্ষের গুলিচালনায় ১৩ জনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনাকে স্মরণে রেখে এই কর্মসূচি করে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ঘটনাস্থল ওই জায়গা বলে সেখানেই শহিদ দিবস উদযাপন করা হয়। কিন্তু এবছর ব্যতিক্রম হতে চলেছে।
কালীঘাট তৃণমূলের তরফে দোলা সেন জানিয়েছেন, ‘‘আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা আছে আমাদের। আমরা ৩৩ বছর ধরে এখানেই ২১ জুলাই পালন করে থাকি। এটা তো যে কোনও কর্মসূচি নয়, শহিদ-তর্পণ। একবেলা বন্ধ থাকে ধর্মতলা। এই জায়গা বাদ দিয়ে অন্য কোথায় করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা করছি দলের মধ্যে।”
প্রায় একই বক্তব্য ঋতব্রত শিবিরের। দলের মুখ্যসচেতক আখরুজ্জামান জানাচ্ছেন, ‘‘আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব না। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। দরকারে পুলিশের কাছে আবারও আবেদন জানাব।”
সোমবার বিধানসভায় কুণাল ঘোষদের কড়া ভাষায় বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশ্ন তুলেছিলেন, পুলিশ অনুমতি ছাড়া কেন আগ বাড়িয়ে মাপামাপি করতে গেলেন? এরপরই হেয়ার স্ট্রিট থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়।