ওঙ্কার ডেস্ক: জমি দুর্নীতি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এই আশঙ্কায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত অসহায়ক সুমিত রায়। এই মামলায় তাঁকে স্বস্তি দিল সর্বোচ্চ আদালত। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, আগামী শুনানির দিন পর্যন্ত এই মামলায় সুমিতকে গ্রেফতার করা যাবে না।
তবে শীর্ষ আদালত এটাও জানিয়েছে, জমি-দুর্নীতি মামলার তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে সুমিতকে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন তদন্তকারীরা। এদিন সুপ্রিম কোর্টে সুমিতের গ্রেফতারির উপর স্থগিতাদেশের আবেদনের বিরোধিতা করেন কেন্দ্রের সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তে বাধা দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। যদিও সুমিতের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ জানান, জমি-দুর্নীতির যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে, সেটি পাঁচ বছর আগের। ২০২৬ সালের জুন মাসে সেই ঘটনা টেনে এনে সুমিতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এটি করা হয়েছে বলে দাবি ওই আইনজীবীর।
উল্লেখ্য, জমি-দুর্নীতি মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে আগেই কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন সুমিত। গত সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁর আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দেন। হাইকোর্ট চাকরি-দুর্নীতির একটি মামলায় শর্তসাপেক্ষে অভিষেকের আপ্তসহায়কের আগাম জামিন মঞ্জুর করে। ওই মামলায় ১০ দিনের মধ্যে তদন্তকারীদের সামনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও সুমিতের আশঙ্কা, এই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে তাঁকে জমি-দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হতে পারে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে যান সুমিত রায়। এ বার সর্বোচ্চ আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দিল।