ওঙ্কার ডেস্ক: টালিগঞ্জে দিনের আলোয় পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে প্রায় ২ কোটি টাকা লুটের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে টালিগঞ্জ থানা এলাকার একটি বহুতলে এই দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশকর্মী বলে পরিচয় দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে এবং তল্লাশির নামে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ। ঘটনা সামনে আসতেই পুরো বিষয়টিকে বলিউডের অক্ষয় কুমার অভিনীত ‘স্পেশাল ২৬’ সিনেমার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা বাড়িতে ঢোকার পর নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে জানায়, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি চালাতে এসেছে তারা। পুলিশের পোশাক না থাকলেও আচরণ ও কথাবার্তায় নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে তারা। এরপর বাড়ির সদস্যদের একপ্রকার নিয়ন্ত্রণে রেখে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানোর নামে আলমারি খুলিয়ে নগদ অর্থ বের করে। অভিযোগ, সেখান থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা নিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার পর হতবাক হয়ে পড়েন বাড়ির সদস্যরা। কিছুক্ষণ পর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে টালিগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। গোটা বাড়ি ঘিরে তদন্ত শুরু হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। তদন্তকারীরা বাড়ির সদস্যদের পাশাপাশি আবাসনের নিরাপত্তারক্ষী ও অন্যান্য বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন।
তদন্তের স্বার্থে আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। দুষ্কৃতীরা কোন গাড়িতে এসেছিল, কতজন ছিল এবং কোন পথ দিয়ে এলাকা ছেড়ে যায়, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের অনুমান, বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রাখা ছিল, সেই তথ্য আগে থেকেই অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে পরিকল্পনা করেই তারা পুলিশ পরিচয়ে বাড়িতে ঢুকে এই লুটের ঘটনা ঘটায়। তদন্তকারীরা এখন এই ঘটনার সঙ্গে কোনও পরিচিত ব্যক্তি বা অভ্যন্তরীণ সূত্র জড়িত রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। নগদ অর্থের উৎস, বাড়িতে এত টাকা কেন রাখা ছিল এবং সেই তথ্য কীভাবে বাইরে পৌঁছল, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য সূত্রের সাহায্যে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।