ওঙ্কার ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাই কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি কোনও সরকারি দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি কর্মজীবী নারীদের একটি সাংবিধানিক অধিকার। আদালত স্পষ্ট করেছে, মাতৃত্বের কারণে কোনও নারীকে আর্থিকভাবে বঞ্চিত করা বা তাঁর চাকরির ধরনকে অজুহাত করে বৈষম্যের শিকার করা সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী।
এই মামলায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত কয়েকজন মহিলা চিকিৎসক আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর হলেও সেই সময়ের বেতন ও ভাতা আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের জারি করা একটি নির্দেশিকার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি বিচার করে আদালত সেই নির্দেশিকা বাতিল করে দেয় এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির পুরো সময়ের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা অবিলম্বে প্রদান করার নির্দেশ দেয়। বিচারপতি রাজনেশ ওসওয়াল রায়ে বলেন, মাতৃত্ব নারীর জীবনের একটি স্বাভাবিক জৈবিক ও সামাজিক বাস্তবতা। তাই কোনও নারীকে শুধুমাত্র তাঁর চাকরির চুক্তির ধরন বা অস্থায়ী নিয়োগের কারণ দেখিয়ে মাতৃত্বকালীন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা যায় না। নিয়মিত কর্মীর মতোই তাঁদের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতি একই থাকে। ফলে মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং সেই সময়ের পূর্ণ বেতন পাওয়ার অধিকারও সমানভাবে প্রযোজ্য।
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে, একবার সরকার যদি বিদ্যমান পরিষেবা বিধি অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটি অনুমোদন করে, তবে পরবর্তীতে নির্বাহী নির্দেশ জারি করে সেই সময়ের বেতন বন্ধ করে দেওয়া আইনসম্মত নয়। মাতৃত্বকালীন ছুটির সঙ্গে পূর্ণ বেতন পাওয়ার অধিকার ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই অধিকার খর্ব করা যায় না। রায়ে আরও বলা হয়, মাতৃত্বকে কখনও আর্থিক বোঝা হিসেবে দেখা উচিত নয়। একজন কর্মজীবী নারী সন্তান জন্মদানের সময় শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যান। তাই সংবিধানে নিশ্চিত করা মর্যাদা, সমতা এবং প্রজনন-সংক্রান্ত অধিকারের অংশ হিসেবেই মাতৃত্বকালীন সুবিধাকে বিবেচনা করতে হবে।