ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লি, চেন্নাই ও মুম্বইয়ের হাসপাতালগুলোতে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। শীতের শুরুতেই বাতাসের গুণমান দ্রুত খারাপ হওয়া এবং দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মহানগরগুলিতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এই তিন শহরের হাসপাতালগুলিতে জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে সাধারণ ওয়ার্ড সব জায়গাতেই ঘন হয়ে উঠেছে রেসপিরেটরি রোগীদের উপস্থিতি। নাক বন্ধ, কাশি, গলা বসে যাওয়া থেকে শুরু করে শ্বাস নেওয়ায় গুরুতর সমস্যা।
দিল্লির বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট সমস্যাজনিত রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। দূষণে আবৃত বাতাসে শহরের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। অনেক শিশু ও বয়স্ক মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ায় সংক্রমণ ও প্রদাহ বাড়ছে, যার ফলে শ্বাসনালী আরও সংকুচিত হয়ে সমস্যার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চেন্নাইতেও একই ছবি। শীতের আগে থেকেই সেখানে রেসপিরেটরি সমস্যার প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক আবহাওয়া পরিবর্তন ও বায়ুতে অস্বাভাবিক আর্দ্রতা হঠাৎ করে রোগের গ্রাফ বাড়িয়েছে। শহরের বড় বড় হাসপাতালগুলিতে পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ড ভরে উঠছে শ্বাসকষ্টের সংক্রমণে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে। পাশাপাশি, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেও অ্যাজমা অ্যাটাক, ব্রঙ্কোস্পাজম ও ভাইরাল নিউমোনিয়ার মতো সমস্যা বাড়ছে। একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে এত দ্রুত রোগীর চাপ বাড়তে দেখা যায়নি।
মুম্বইতে দূষণ এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একিউআই ধারাবাহিকভাবে খারাপ থাকায় শহরের বায়ুর মান শ্বাস নেওয়ার অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। এতে হাসপাতালে প্রতিদিন নতুন করে ভর্তি হচ্ছে শতাধিক রোগী, যাঁদের অধিকাংশই কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত বাতাসে রাসায়নিক কণা এতটাই মিশে রয়েছে যে তা সরাসরি ফুসফুসে গিয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করছে। যাঁদের আগে থেকেই ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে।
একই সময় কলকাতার অবস্থাও খুব আলাদা নয়। দিল্লি বা মুম্বইয়ের মতো ভয়াবহ না হলেও বাতাসে ধুলিকণা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এখানে দ্রুত বাড়ছে। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের ভিড় লেগেই থাকছে। অনেক হাসপাতাল শীতের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। রেসপিরেটরি কেয়ার ইউনিটের বেড বাড়ানো হয়েছে, আইসিইউতেও সংক্রমণজনিত রোগীদের জন্য নতুন জায়গা তৈরি করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, শীতের সময় ভাইরাল সংক্রমণ, দূষণ ও তাপমাত্রার পরিবর্তন মিলিয়ে মানুষের শ্বাসযন্ত্র সবচেয়ে বেশি চাপে থাকে। তাই শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাস্ক ব্যবহার, দূষণ বেশি থাকা এলাকায় কম সময় থাকা, প্রয়োজন হলে স্টিম নেওয়া ও শরীর গরম রাখা, এগুলোকে সাধারণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
