ওঙ্কার ডেস্ক: কসবার সরকারি ল কলেজে ঘটে যাওয়া নারকীয় গণধর্ষণের ঘটনায় একাধিক মহল থেকে সিবিআই তদন্তের দাবি উঠলেও, নির্যাতিতার পরিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাঁরা এই মুহূর্তে সিবিআই তদন্ত চাইছেন না। কলকাতা পুলিশের ওপরই তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে রবিবার পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে। পরিবারের সদস্য বলেন, “পুলিশ যথেষ্ট দ্রুত পদক্ষেপ করছে। আমাদের বিশ্বাস আছে, দোষীরা শাস্তি পাবে।’’ সঙ্গেই রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে নিজেদের দূরে রাখতে চেয়েছে পরিবার। তৃণমূলের বিধায়ক মদন মিত্রের বিতর্কিত মন্তব্য, যেখানে তিনি নির্যাতিতার একা কলেজে যাওয়া উচিত ছিল না বলে মন্তব্য করেছিলেন তা নিয়েও কোনও মন্তব্য করতে চাননি তাঁরা। পরিবারের কথায়, “আমরা এমন কোনও কথা শুনিনি, শুনতেও চাই না।”
এদিকে, ঘটনার পরই কলকাতা পুলিশ দ্রুত পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে ইতিমধ্যেই নির্যাতিতাকে কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছল, মূল অভিযুক্ত সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। SIT-এর সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে তাতে এক মহিলা অফিসারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধি দল নির্যাতিতার সঙ্গে দেখা করতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নাগরিক সমাজের একাংশ সিবিআই তদন্তের দাবিতে রবিবার পথে নেমেছিল। তবে পরিবার মনে করছে, এই মুহূর্তে পুলিশ যথেষ্ট সঠিক দিশায় কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরজি কর মেডিকেল কলেজ কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের গতি নিয়েও যখন প্রশ্ন উঠেছে, তখন কসবায় পুলিশি পদক্ষেপ ও একের পর এক প্রমাণ জোগাড় হওয়ায় নির্যাতিতার পরিবার কেন্দ্রীয় সংস্থার হস্তক্ষেপ চাইছে না। তাদের একমাত্র দাবি শাস্তি যেন হয় সর্বোচ্চ এবং কোনও দোষী যেন না বাঁচে।
