ওঙ্কার ডেস্ক: উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কুমারটুলি ঘাটকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলার কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে এসএমপি। প্রশাসনের লক্ষ্য, আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের সমস্ত কাজ শেষ করে ঘাটটিকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা। উত্তর কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী ঘাট শুধুমাত্র গঙ্গার তীরবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানই নয়, বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় আবেগের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তাই ঘাটের পুনর্গঠনকে ঘিরে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঘাটের বিভিন্ন অংশে ভাঙন, পরিকাঠামোগত দুর্বলতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর সময় প্রতিমা নিরঞ্জন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং পর্যটকদের ভিড়ের কারণে ঘাটের উপর চাপ বেড়ে যায়। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই ব্যাপক সংস্কার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ঘাটের সিঁড়ি ও নদীতীরবর্তী অংশকে আরও মজবুত করা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন রেলিং, আলোকসজ্জা এবং উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘাট সংলগ্ন এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সৌন্দর্যায়নের কাজও চলছে। নদীর ধারে হাঁটার জন্য বিশেষ পথ, বসার জায়গা এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
কুমারটুলি বাংলার মৃৎশিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানকার শিল্পীদের হাতে তৈরি দুর্গা প্রতিমা শুধু রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেই নয়, দেশের বাইরে বিশ্বের নানা দেশেও পৌঁছে যায়। সেই কারণে কুমারটুলি ঘাটের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। প্রতিমা তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে এবং বিসর্জনের সময় এই ঘাটের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে ঘাটের আধুনিকীকরণ শিল্পী ও ব্যবসায়ীদের কাছেও স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হলেও পুরনো স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা। নদীতীরের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে পুরো প্রকল্প।
প্রশাসনের আশা, দুর্গাপুজোর আগেই কাজ সম্পূর্ণ হলে প্রতিমা নিরঞ্জন এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আগত মানুষের সুবিধা অনেকটাই বাড়বে। একই সঙ্গে নতুনভাবে সেজে ওঠা কুমারটুলি ঘাট উত্তর কলকাতার অন্যতম আকর্ষণীয় নদীতীরবর্তী স্থানে পরিণত হবে।