নিজস্ব সংবাদদাতা : ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির এক অনন্য সাক্ষ্যবাহী কুমারটুলি ঘাট এবার পাবে নতুন জীবন। শুক্রবার এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দর, কলকাতা এবং আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড হাতে হাত মিলিয়ে ঘোষণা করছে এই ঘাটের পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, পুনর্গঠন ও সৌন্দর্যায়নের।
কলকাতার বুকে হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত কুমারটুলি ঘাট বহু দশক ধরে বাংলার মৃৎশিল্প ও দেবীমূর্তি নির্মাণ শিল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। দুর্গাপুজোর আগেই এই ঘাটে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা, প্রতিমা বিসর্জন, আর নদীর স্রোতের সঙ্গে মিশে থাকা কলকাতার শিল্পজীবন, সবই যেন জড়িয়ে আছে এই ঘাটের ইট-কাঠে। সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রাণ দিতে স্বচ্ছতা অভিযানের অংশ হিসেবে এই চুক্তি সই হল শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দরের সদর দফতরে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দরের চেয়ারম্যান শ্রী রথেন্দ্র রমন, আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেডের বিজনেস ডেভেলপমেন্টের প্রেসিডেন্ট শ্রী সুব্রত ত্রিপাঠী, এপিএসইজেড লিমিটেডের কনসালট্যান্ট শ্রী সঞ্জয় কে থাডে, ডেপুটি চেয়ারম্যান শ্রী সম্রাট রাহি-সহ দুই সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। চুক্তি অনুযায়ী, কুমারটুলি ঘাটকে সংস্কারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ হেরিটেজ রূপ ও পরিবেশ-সামঞ্জস্য বজায় রাখা হবে। নদীঘাটের পরিকাঠামো উন্নত করার পাশাপাশি এর ঐতিহাসিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অটুট রাখাই মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি স্থানীয় মৃৎশিল্পী, বাসিন্দা ও পর্যটকদের জন্য ঘাটকে আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও মনোরম করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শ্রী রথেন্দ্র রমন বলেন, ‘‘কুমারটুলি ঘাট শুধুমাত্র একটি স্থাপনা নয় এটি বাংলার শিল্প-আত্মার জীবন্ত প্রমাণ। আদানি পোর্টসের সঙ্গে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা শুধুমাত্র একটি স্থাপনাকে নয়, এক টুকরো কলকাতার প্রাণকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে চলেছি। স্বচ্ছতা অভিযান সফল করার পথে এটি আমাদের গর্বের অধ্যায়, যেখানে ঐতিহ্য ও আধুনিক নাগরিক দায়িত্ব একসাথে মিলিত হচ্ছে।’’ তিনি আরও জানান, ‘‘আদানি পোর্টসের এই গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ঘাটে তাদের অবদানের স্মারক হিসেবে তা প্রদর্শিত থাকবে, যাতে সবাই বোঝেন সম্মিলিত উদ্যোগ কতটা দূর এগোতে পারে।’’
আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট শ্রী সুব্রত ত্রিপাঠী বলেন, ‘‘কলকাতার আবেগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এমন একটি হেরিটেজ ঘাটকে নতুন করে সাজানোর দায়িত্ব পেয়ে আমরা গর্বিত।’’
এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন কুমারটুলির ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য রক্ষিত হবে, অন্যদিকে শিল্পীদের কাজের পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের জন্য নদীঘাটে যাতায়াত আরও আরামদায়ক হবে। আশা করা হচ্ছে, সংস্কারের পর নতুন রূপে সেজে উঠবে কলকাতার এই নদীঘাট, যা স্থানীয় শিল্প সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও পর্যটন সব কিছুকেই আরও উন্নত করবে।