ওঙ্কার ডেস্ক: বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে রাজ্য সচিবালয় থেকে মাত্র দু’কিলোমিটার দূরে ব্যাপক গোহত্যার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি কসাইখানায় প্রায় ২৬০টিরও বেশি গরু জবাই করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনাটি সামনে আসে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি, যখন ভোপালের জিনসি এলাকার একটি কসাইখানা থেকে বিপুল পরিমাণ মাংসবোঝাই একটি কনটেনার আটক করা হয়।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কনটেনারে প্রায় ২৬.৫ টন মাংস ছিল। অথচ সংশ্লিষ্ট কসাইখানাটির অনুমতি ছিল দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যক মহিষ জবাইয়ের, গরু নয়। প্রসঙ্গত ম২০০৪ সাল থেকে মধ্যপরদেশে গোহত্যা সম্পুর্ণ ভাবে নিষীদ্ধ। প্রাথমিকভাবে স্থানীয় পশুচিকিৎসকদের একটি দল মাংসকে মহিষের মাংস বলে সার্টিফিকেট দেওয়ায় কনটেনারটি ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর সেটি মুম্বই হয়ে বিদেশে রপ্তানির জন্য পাঠানো হয় বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত হলে মাংসের নমুনা উত্তরপ্রদেশের মথুরার একটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। সেখানকার রিপোর্টে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, ওই মাংস গরুর। ততক্ষণে অবশ্য কনটেনারটি দেশের বাইরে পৌঁছে গিয়েছে বলে দাবি। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কসাইখানার মালিক বিভিন্ন সরকারি চুক্তির আড়ালে অসুস্থ বা মৃত পশু সংগ্রহের নাম করে সুস্থ গরু এনে জবাই করছিলেন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই বেআইনি কার্যকলাপ চলছিল, অথচ নিয়মিত নজরদারি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের একটি অংশ তা উপেক্ষা করেছে। ঘটনার পর এক সরকারি পশুচিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
এই ঘটনায় কসাইখানার মালিক এবং এক ট্রাকচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে বিরোধী দল ও বিভিন্ন গোরক্ষা সংগঠনের অভিযোগ, দ্রুত গ্রেফতার দেখিয়ে আসল মাথাদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ বাজেয়াপ্ত না করা, দেরিতে ডিএনএ পরীক্ষা করা এবং প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মধ্যপ্রদেশে ২০০৪ সাল থেকেই গোহত্যা নিষিদ্ধ এবং রাজ্য সরকার সম্প্রতি গোরক্ষা নিয়ে কড়া অবস্থানের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে রাজ্য সচিবালয়ের এত কাছে এমন ঘটনা প্রশাসনিক ব্যর্থতার নজির বলেই মনে করছেন অনেকেই। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এখন জোরালো হচ্ছে রাজ্যজুড়ে।
