ওঙ্কার ডেস্ক: লাদাখে দীর্ঘ দিনের দাবির মধ্যে চলমান অনশন আন্দোলন কয়েকদিন আগে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় অধিকার, সংবিধানগত সুরক্ষা এবং লাদাখকে রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে শিক্ষাবিদ ও পরিবেশবিদ সোনাম ওয়াংচুক অনশন চালাচ্ছিলেন। তিনি চাইছিলেন, লাদাখের মানুষদের আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন ও প্রতিনিধিত্ব মিলুক।
২৪ সেপ্টেম্বর সকালে অনশনরত কয়েকজনের অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু অনশনকারীরা মূল মঞ্চ ত্যাগ করে প্রশাসনিক অফিস ও রাজনৈতিক দপ্তরের দিকে চলে যায়। সেখানে তারা স্লোগান দিতে শুরু করে এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। চারজন নিহত এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে এবং আত্মরক্ষায় গুলি চালায়। শহরের কিছু জায়গায় সরকারি গাড়ি ও অফিস ভাঙচুরের শিকার হয়, কারফিউও জারি করা হয় এলাকায়।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানায়, অনশন চলাকালীন সময়ে কিছু উত্তেজনামূলক বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, অনশন সম্পর্কিত অনেক দাবিই ইতিমধ্যেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির আলোচনায় রয়েছে। কিছু অগ্রগতি হয়েছে, যেমন উপজাতি সংরক্ষণ বৃদ্ধি, নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং স্থানীয় ভাষা ভোটি ও পুরগিকে অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
মন্ত্রক জানিয়েছে, সোনাম ওয়াংচুক অনশন বন্ধ করে একটি অ্যাম্বুল্যান্সে গ্রামে চলে যান, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে আরও জটিলতা তৈরি করেছে। এবিষয়ে একটি প্রেস রিলিজও প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডে নামক এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকারে সোনাম জানান,এবিষয়ে একটি প্রেস রিলিজও প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডে নামক এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকারে সোনাম জানান, তিনি বরাবর মহত্মা গান্ধীর দেখানো পথেই অনশন করে এসেছেন। তিনি সব সময় শান্তিপূর্ণ ভাবেই নিজের দাবি রেখে এসেছেন। তাঁর কথায়, “ লাদাখের যুব সমাজ হঠাৎ হিংসাত্মক ভাবে আন্দোলন করবে এটা অপ্রত্যাশিত কিন্তু একেবারেই আকস্মিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে যুব সমাজের কোনো কাজ নেই।একটা সময় তাদের এই ক্ষোভ ফেটে পড়তই”। উল্লেখ্য এর আগে একাধিকবার অনশনে বসেছেন পরিবেশবিদ সোনাম ওয়াংচুক।
সরকার জানিয়েছে লাদাখের মানুষের দাবির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে সামাজিক মাধ্যমে প্ররোচনামূলক তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে জনগণকে অনুরোধ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুললেও, বিলম্বিত আলোচনা ও উত্তেজনার কারণে পরিস্থিতি এতদূর গেছে। কেন্দ্র ও আন্দোলনকারীরা কীভাবে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান আনতে পারবে এবং লাদাখবাসীর দাবি পূর্ণভাবে মেনে নেওয়া হবে কি না সেদিকে নজর।
