ওঙ্কার ডেস্ক: ভিনরাজ্যে বাংলাভাষী মানুষের উপর লাগাতার নিপীড়নের ঘটনায় উত্তাল রাজনীতি। তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাজপথে নেমেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। শহিদ দিবসের মঞ্চেও বারবার একই কথা বলে গেছেন তৃণমুলের নেতাবৃন্দরা, বাংলাভাষীদের উপর অত্যাচার বরদাস্ত করা হবে না। ২৭ জুলাই থেকে রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে ‘ভাষা আন্দোলন’। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি শনি ও রবিবার এই আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে রাজ্যজুড়ে হবে প্রতিবাদ মিছিল ও কর্মসূচি। আর এই কর্মসূচির কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে রবি ঠাকুরের বীরভূমের বোলপুর।
রবিবার বিকেলেই বীরভূমে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সফর ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা ও নিরাপত্তার চাদর। সূত্রের খবর, ভাষা আন্দোলনের কর্মসূচির পাশাপাশি একাধিক প্রশাসনিক কাজও রয়েছে তাঁর সফরে। সোমবার, ২৮ জুলাই দুপুরে বোলপুরের ‘গীতাঞ্জলি’ সভাঘরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে রাজ্যের একাধিক প্রকল্প যেমন ‘স্বাস্থ্যসাথী’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘কর্মশ্রী’ইত্যাদির অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন নিয়ে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তিনি। এরপর বিকেল ৪ টে নাগাদ শুরু হবে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের মিছিল। বোলপুর ট্যুরিস্ট লজ মোড় থেকে জামবনি মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই মিছিলে অংশ নেবেন রাজ্য ও জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব, কর্মী সমর্থক এবং বিশিষ্টজনেরা। মিছিল শেষে জামবনি মোড়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিতে মাল্যদান করবেন মুখ্যমন্ত্রী, তারপর অস্থায়ী মঞ্চ থেকে দেবেন জোরালো ভাষণ। তারপর মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী যাবেন ইলামবাজারে। সেখানে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরই তাঁর কলকাতা ফেরার কথা।
সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা এবং মহারাষ্ট্রের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের উপর নিপীড়নের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। কখনও কাজের জায়গায় হেনস্থা, আবার কোথাও স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা এই সমস্ত ঘটনার বিরুদ্ধে ২১ জুলাই ধর্মতলায় আয়োজিত শহীদ দিবসের সভা থেকেই গর্জে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, “বাংলা ভাষার প্রতি অপমান কখনও মেনে নেওয়া হবে না।”
ভাষা বিদ্বেষের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক রিপোর্টে দাবি করেছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাভাষী নাগরিকদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হেনস্থা করছে। এই রিপোর্টকে শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “এটা শুধু নিন্দনীয় নয়, ভারতীয় সংবিধানেরও পরিপন্থী। কেন্দ্রের লজ্জা পাওয়া উচিত।”
ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতিগত নিরাপত্তার ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর এই জোরালো বার্তা ও নানা পদক্ষেপ যে বাংলার অস্মিতাকে হাতিয়ার করে রাজ্যে যে জটিল রাজনৈতিক বাতাবরণ তৈরি করছে না সেকথা একেবারে নিশ্চিত ভাবে বলে যায়না। নানা রাজনৈতিক বিষেশজ্ঞদের মতে এই আন্দোলনের আয়ু সম্ভবত ২৬শে বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্তই সীমিত। এই আন্দোলন, গর্জন আর বাংলা ভাষার প্রতি রাজনীতিকদের অতিরিক্ত ভালোবাসা, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ঠিক কতটা উপকারে আসবে নাকি এর আড়ালে আরও গভীর কোনও রাজনৈতিক কৌশল লুকিয়ে আছে সেনিয়ে বিস্ময় থেকেই যায়।
