ওঙ্কার ডেস্ক: ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই আবহে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের সময়সীমা বাড়াতে। স্ক্রুটিনির জন্য সাত দিন সময়সীমা বাড়ানোর কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি বিচারপতি জানিয়েছেন, ইআরও-রা এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সর্বোচ্চ আদালতের এদিনের নির্দেশের ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পিছিয়ে যাবে।
রাজ্যে এনুমারেশন ফর্ম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তার জন্য সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে শোকজ করেছে। হলফনামা জমা দিয়ে তাঁকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বুধবার এসআইআর মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চে। সেদিন আইনজীবীদের সঙ্গে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে সওয়াল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যা একটি নজিরবিহীন ইতিহাস। মমতা দেখিয়ে দেন, ভোটারদের এসআইআর সমস্যা নিয়ে তিনি শুধু রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দানে সরব নন। দেশের শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়ে এই ইস্যুতে দৃপ্ত কন্ঠে সওয়ালও করেছেন তিনি। যুক্তি, আবেগ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন প্রধান বিচারপতির সামনে। আদালতে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, এসআইআর দেখিয়ে শুধু পশ্চিমবঙ্গকেই নিশানা করা হয়েছে। হঠাৎ কেন তিন মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন রাজ্যে যে অনেকের মৃত্যু হয়েছে, তা-ও তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন বিচারপতির বেঞ্চের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী সেদিন বলেন, রাজ্যে এসআইআর আতঙ্কে ১০০ জনের বেশি মারা গিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দৃঢ়তা কার্যত টলিয়ে দিয়েছে জাতীয় রাজনীতিকে। প্রায় সমস্ত বিরোধী দল তাঁর এই ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছে। রবিবার সিপিএমের রাজ্য হেড কোয়ার্টারে দাঁড়িয়ে মমতার এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সিপিএমের পলিটব্যুরো মেম্বার তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। যা অস্বস্তি বাড়িয়েছে আলিমুদ্দিনের অন্দরেও।
