অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: শুক্রবার সারারাত ধরে উত্তপ্ত থাকা কালীঘাটে শনিবার দুপুরে পৌঁছলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি একযোগে নিশানা করলেন বিজেপি এবং পুলিশকে।
মমতার অভিযোগ, গভীর রাতে যখন এলাকার মানুষ ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন বাইরে থেকে লোক এনে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, রাত তিনটের সময় এভাবে হামলা কেন? গণতন্ত্র বলে কি কিছু নেই? পুজোর সময়ও কেন শান্তিতে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না? এদিন সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ উগরে দেন কালীঘাট থানার ওসির বিরুদ্ধে। মমতার দাবি, অভিষেক যখন থানার ওসিকে কিছু জানাতে যান, তখন তাঁর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, থানার আধিকারিকরা নিজেদের যেন ভগবান ভাবছেন। পুলিশকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। সরকারের অধীনে পুলিশ কীভাবে কাজ করে, তা তিনি ভালো করেই জানেন।
কালীঘাট থানার ওসি বলাই বাগের নাম করে মমতা বলেন, নতুন করে যাঁকে আনা হয়েছে, তাঁর সব খবর তাঁর কাছে আছে। তাঁর কতটা ক্ষমতা, কতদূর প্রমোশন হবে, সবই তিনি জানেন। এরপরই তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সীমা ছাড়িয়ে গেলে ফল ভালো হবে না। প্রয়োজনে তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। মমতা আরও বলেন, জনরোষের বিস্ফোরণ ঘটলে কী হবে, সেটা মনে রাখা দরকার। তিনি ওসিকে শুভ দীপাবলি জানিয়ে তাঁর পরিবারের ভালো থাকার কামনাও করেন, কিন্তু তার সঙ্গেই হুঁশিয়ারি জারি রাখেন।
মমতার আরও একটি বড় অভিযোগ, তাঁর বাড়ির পুজোয় যাতে কেউ আসতে না পারেন, সেজন্য সামনের রাস্তার মোড়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নতুন করে পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, তাঁর বাড়ির মোড়ে আগে কখনও পুজো হত না। এবার রাস্তা আটকে পুজো করা হচ্ছে, যাতে লোকজন তাঁদের পুজোয় ঢুকতে না পারে। এই পুজোর কোনও বৈধ অনুমতি নেই, পুরোটাই জোরজুলুম করে চলছে। পুলিশের উচিত বিষয়টা দেখা। ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, পারলে তাঁর শরীরের উপর দিয়ে বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া হোক।
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় কালীঘাটে। অভিষেকের অনুগামীদের সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি, তারপর ধস্তাধস্তি, ইট ছোড়াছুড়ি শুরু হয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। অভিষেকের অভিযোগ, তাঁদের কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। পেরেক লাগানো লাঠি দিয়ে তাঁর কর্মীদের মারা হয়েছে। তাঁর চার-পাঁচজন অনুগামী গুরুতর জখম হয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। অবস্থা সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে হয়।এর প্রতিবাদে রাতেই রাস্তায় বসে অবস্থান শুরু করেন অভিষেক। পুলিশের সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি হয়। শনিবার ভোর সাড়ে ছ’টা নাগাদ পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি বাড়িতে ঢোকেন।