অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: ভাত-মাংস খাওয়ানোর জন্য আমন্ত্রণ। শখ করে মামাবাড়ির সদস্যদের বাড়িতে ডেকে আনত ট্যাক্সিচালকের নাবালিকা কন্যা। আর ওই খাবারের মধ্যেই মেশানো থাকত ঘুমের ওষুধ। খাবার খেয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লেই জোরে টিভি চালিয়ে দিয়ে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করা হত বলে অভিযোগ। বেঙ্গালুরু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের হাতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সাতজনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত তিনজনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। বাকি চারজনের দেহের খোঁজে ১২টি দল গঠন করে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তামিলনাড়ুর সালেমের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছে ইন্দুশেখরের স্ত্রী সুনীতা এবং শাশুড়ি রূপবতীর দেহ। এর আগে বেঙ্গালুরুর নন্দন পাহাড়ের কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছিল সুনীতার সাত বছরের ভাইপোর দেহ।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, প্রথম খুন হয় ১৪ অক্টোবর। সেদিন খুন করা হয় স্ত্রী সুনীতাকে। পরের দিন মেয়েকে দিয়ে দিদা রূপবতীকে বাড়িতে ডেকে পাঠান ইন্দু। মাংস-ভাত খাওয়ানোর কথা বলে তাঁকে আনা হয়। রূপবতী রাতে আসেন। আগে থেকেই খাবারে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল। খাবার খেয়েই ঝিমিয়ে পড়েন তিনি। এরপর বাবা-মেয়ে মিলে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করেন তাঁকে। খুনের সময় যাতে পাড়া-প্রতিবেশীরা কোনও শব্দ না পান, সেজন্য টিভি খুব জোরে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এরপর সুনীতা এবং তাঁর মায়ের দেহ প্লাস্টিকে মুড়িয়ে বস্তায় ভরে তামিলনাড়ুতে ফেলে দিয়ে আসা হয়। তার দু’দিন পর একই কায়দায় খুন করা হয় সুনীতার ভাইপোকে। তার দেহ গাড়িতে করে ফেলে দিয়ে আসা হয় নন্দন পাহাড়ে। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সুনীতার দুই দাদা এবং তাঁদের স্ত্রীদেরও আলাদা আলাদা করে নিমন্ত্রণ করে একইভাবে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। প্রতিবারই খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করে খুন করে দেহ গাড়িতে তুলে ফেলে দিয়ে আসতেন বাবা-মেয়ে।
সূত্রের আরও খবর, ইন্দুর গাড়ি থেকে প্রচুর পারফিউমের কৌটো পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দেহে পচন ধরলে দুর্গন্ধ চাপা দিতেই এই পারফিউম রাখা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, স্ত্রী, শাশুড়ি এবং দুই শ্যালকের স্ত্রীর গায়ে যত সোনার গয়না ছিল, দেহ ফেলে দেওয়ার আগে সেগুলি খুলে নিয়েছিলেন ইন্দু। সেই গয়না বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, নাকি কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।
গত বুধবার গাড়ি-সহ ইন্দুকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই সময় তাঁর গাড়ির ভিতরে ১০ বছরের একটি ছেলেকে দেখতে পান তাঁরা। ছেলেটি ইন্দুর এক শ্যালকের। তদন্তকারীদের সন্দেহ, তাকেও খুনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তার আগেই ধরা পড়ে যান ইন্দু।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ২০ বছর ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের প্রতি সন্দেহ ছিল ইন্দুর। প্রায় ৩ কোটি টাকার একটি সম্পত্তি নিয়েও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে ঝামেলা চলছিল তাঁর। এই সব তথ্য একত্রিত করে খুনের আসল কারণ খুঁজছেন তদন্তকারীরা।