নিজস্ব সংবাদদাতা: মঙ্গলবার বীরভূমের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করলেন রাজ্যের প্রথম জলাধারভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের। বক্রেশ্বর জলাধারের জলে ভাসমান এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রাজ্যে নবীকরণযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারে এক বড় পদক্ষেপ বলেই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটা রাজ্যে প্রথম জলাধারের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প। খরচ অনেকটাই কমবে, পরিবেশবান্ধবও বটে। সফল হলে রাজ্যের অন্যান্য জলাধারেও এই পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে”। এই প্রসঙ্গে প্রশাসনিক কর্তাদের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেন তিনি।
এদিন শুধু বক্রেশ্বর প্রকল্পই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ১ হাজারেরও বেশি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। যার মোট ব্যয় প্রায় ১,১৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, অজয় নদীর ওপর জয়দেব-কেন্দুলি ও মুচিপাড়া-শিবপুর সংযোগকারী বহু প্রতীক্ষিত সেতু, মালদহে পাঁচটি নতুন সেতু, সিউড়ি জেলা হাসপাতালে হাইব্রিড সিসিইউ ইউনিট, বসিরহাটে ডায়ালিসিস ইউনিট এবং ডায়মন্ড হারবারে লালপোল সেতু।
জয়দেব-কেন্দুলির সেতুর নামকরণ নিয়েও আবেগের ছোঁয়া আনেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “নদীর নামে নাম হলে ভালো, তবে জয়দেব নামে সেতুর নাম হলে মানুষের আবেগ জড়াবে।” জেলা প্রশাসন তাঁর প্রস্তাবে সম্মত হয়।‘ জলস্বপ্ন’ প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকাতেও তীব্র ক্ষোভ জানান মমতা। বলেন, “৯০ শতাংশ টাকা রাজ্য দেয়, জমিও রাজ্য দেয়। অথচ কেন্দ্র তাদের ৪০ শতাংশ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রাখে না।”সেই সঙ্গে সাংসদ ও বিধায়কদের নিজ নিজ এলাকার পিএইচই বিভাগকে সহায়তা করতে ব্যক্তিগত তহবিল ব্যবহার করার নির্দেশ দেন।
সব প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে মুখ্যসচিবকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন “কেন্দ্র টাকা না দিলেও আমরা কাজ থামাব না। মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের অঙ্গীকার”।এই প্রকল্পগুলি শুধু পরিকাঠামো নয়, রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত এমন বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
