ওঙ্কার ডেস্ক: মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের চলতি প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের কাজের স্বচ্ছতা সবকিছুই সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করা হয়। সকাল থেকেই নবান্নে উপস্থিত হন বিভিন্ন দপ্তরের সচিব ও শীর্ষ আমলারা। মুখ্যমন্ত্রীর টেবিলে পৌঁছে দেওয়া হয় প্রতিটি দপ্তরের বিস্তারিত রিপোর্ট, যেখানে উল্লেখ ছিল গত কয়েক মাসে কোন প্রকল্প কতদূর এগিয়েছে, কোন কাজ আটকে আছে এবং কোথায় আর্থিক বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কাজের গতি মন্থর হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও শিল্প সংক্রান্ত একাধিক উদ্যোগের অবস্থা খতিয়ে দেখেন। বিভিন্ন দপ্তরকে জানানো হয় যে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনও প্রকল্পে অকারণ বিলম্ব বা গাফিলতি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকেই বহন করতে হবে। বাজেট বরাদ্দের সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতির তুলনা করেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, জনস্বার্থের কাজ কোনও অবস্থাতেই ধীরে চলতে পারে না।
সম্প্রতি চলা এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে একাধিক দপ্তরের কাজ সাময়িকভাবে প্রভাবিত হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ ছিল। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে নির্দেশ দেন যাতে এসআইআর কোনওভাবেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন পরিষেবা বা উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ না করে। তিনি জেলাশাসকদের লক্ষ্য করে বলেন, নাগরিক পরিষেবা, পেনশন, আবাসন, কৃষি সহায়তার মতো প্রকল্পগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে চালাতে হবে। ভোটের প্রস্তুতি বা অন্য কোনও কারণে মানুষের সুবিধা যেন প্রভাবিত না হয়।
বৈঠকে বহু দপ্তরকে ই-গভর্ন্যান্স ও ডিজিটাল পরিষেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার দিকেও জোর দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, রাজ্যের গ্রামাঞ্চল ও শহরতলির নাগরিকদের এখনও বহু পরিষেবা পেতে প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়। এই পরিস্থিতি বদলানোর জন্য জেলা থেকে ব্লক স্তর পর্যন্ত প্রশাসনিক সমন্বয় আরও মজবুত করতে হবে। তিনি বলেন, মানুষের দরজায় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারি প্রকল্পের সুফল দ্রুত পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের প্রথম দায়িত্ব।
বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যজুড়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বাস্তব প্রভাব দেখতে তিনি নিজে মাঠে নামছেন। বৈঠক শেষ করেই তিনি তিন দিনের জেলা সফরে রওনা দেবেন, যেখানে মালদা ও মুর্শিদাবাদসহ কয়েকটি জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভার কর্মসূচি রয়েছে। এই সফরকে অনেকেই প্রশাসনিক মনিটরিংয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন।
