ওঙ্কার ডেস্ক : জাল নথি ব্যবহার করে মেডিকেল কলেজগুলিতে অনাবাসী ভারতীয় কোটায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার একটি বড়সড় চক্রের হদিশ পেল তদন্তকারী সংস্থা ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট)। এর সঙ্গে বিদেশ মন্ত্রণালয় এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলি যুক্ত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলি জাল নথি ব্যবহার করে এমবিবিএস কোর্সে প্রায় ১৮,০০০ ভর্তির প্রস্তাব দিয়েছিল।
তদন্তের সময় দেখা গেছে, এই কলেজগুলি জাল নথি তৈরির জন্য এজেন্টদের টাকা দিয়েছেল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, এজেন্ট এবং মেডিকেল কলেজগুলি একাধিক প্রার্থীর জন্য একই নথি ব্যবহার করায় রহস্য সামনে আসে। কিছু প্রকৃত এনআরআই শিক্ষার্থীও এই চক্রের জালে জড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই কলেজগুলিতে অভিযান চালিয়ে ইডি বেশ কয়েকটি জাল এনআরআই সার্টিফিকেট এবং আমেরিকায় কর্মরত নোটারি অফিসারদের স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে।
নিয়ম অনুসারে, এনআরআই কোটার মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ফি একজন এনআরআই আত্মীয়কে দিতে হয়। তবে, ইডির তদন্তে দেখা গেছে যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফি এনআরআই পরিবারের সদস্যরা পরিশোধ করেননি। তদন্ত সংস্থাটি গত মাসে জানিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার কর্তৃপক্ষ এনআরআই কোটার অধীনে কিছু বেসরকারি মেডিকেল কলেজে অযোগ্য প্রার্থীদের ভর্তির বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। যদিও এমইএ এই জালিয়াতির স্পষ্ট তথ্য দিয়েছিল।
ইডি জানিয়েছে, এই ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গের একটি বেসরকারি কলেজের ৬.৪২ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত আপাতত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর আগে তারা এই অভিযোগে জড়িত কিছু কলেজ এবং ব্যক্তিদের ১২.৩৩ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল। তদন্তকারী সংস্থাটি বলেছে, “বিদেশ মন্ত্রক থেকে কিছু এনআরআই স্পনসরের ক্ষেত্রে জালিয়াতির স্পষ্ট তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট রাজ্য কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি”। এনআরআই কোটায় এই বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলিতে ভর্তির জন্য যে সব সার্টিফিকেট ব্যবহার করা হয়েছিল তা “আসল নয়” বলে বিদেশের বিভিন্ন ভারতীয় কনস্যুলেট ও দূতাবাস জানিয়েছে।
