ওঙ্কার ডেস্কঃ আর্জেন্টিনা হরে তছনছ ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার রাতে, আটলান্টা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচেই দুরন্ত জয় আর্জেন্টিনার। বিধ্বংসী কামব্যাক এবং অবশ্যই আবারও নিন্দুকদের মুখে যোগ্য জবাব। আসলে মাঠের বাইরে বুলি কপচে কথায় জেতা গেলেও ম্যাচ জেতা যায় না। সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিল আর্জেন্টিনা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দাপটে গুঁড়িয়ে গেল ইংল্যান্ড! ব্রিটিশদের হাতে ‘হ্যারি কেন’ ধরিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরা। ৫৫ মিনিটে, ইংল্যান্ডের হয়ে গোল করেন অ্যান্থনি গর্ডন। তবে দলটার নাম তো আর্জেন্টিনা। যাদের রক্তে আছে লড়াই। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা রাজার মতোই ফিরে আসে। এবারও সেটাই হল। যদিও তার আগে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর মিস করেন এনজো ফার্নান্দেজ। মোটামুটি ৬০ মিনিটের পর থেকে যেভাবে ইংল্যান্ডকে চেপে ধরেছিল আর্জেন্টিনা, তাতে হ্যারি কেন এবং বেলিংহ্যামদের জারিজুরি শেষ হয়ে গেছিল। কিছুই করার ছিল না তাদের.৮৪ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের শট ব্লক হয় এবং ৮৫ মিনিটের মাথায়, এনজো ফার্নান্দেজের শট বাইরে দিয়ে উড়ে যায়। কিন্তু ম্যাচের ৮৫ মিনিটে, ডেডলক ভেঙে দিল আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে লিওনেল মেসির অ্যাসিস্ট এবং বক্সের বাইরে থেকে এনজো ফার্নান্দেজের ডান পায়ের শটে অনবদ্য গোল। উত্তেজনার পারদ চরমে তখন। গোল পেয়ে আরও চাপ বাড়াল আর্জেন্টিনা। পুরো বিপক্ষ বক্সে খেলা চলছে। এরপর ঠিক ৯২ মিনিট। লিওনেল মেসির মাপা ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডারে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেন লাউতারো মার্টিনেজ। গোটা গ্যালারি তখন উচ্ছ্বসিত। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের দাপটে কার্যত, উৎসব চলছে। দুরন্ত প্রত্যাবর্তন।খেলা শেষে মেসি বলেন, “আমি নিশ্চিত, দিয়েগো উপরে বসে হাসছেন। এই দিনটা ওঁর কাছেও বিশেষ দিন হয়ে রইল। ওঁকে এই আনন্দ দিতে পেরে আমরা খুশি। এই জয় ওঁকে উপহার দিলাম।”
এ বারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনায় একমাত্র দল, যারা এখনও পর্যন্ত সব ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু তার পরেও বার বার তাদের নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ফিফা আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিয়েছে, এই কথা শুনতে হয়েছে। সেমিফাইনালে পিছিয়ে থেকেও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সব সমালোচনার জবাব দিয়েছে আর্জেন্টিনা।
মেসি জানেন, এই ম্যাচ হারলে কী কী শুনতে হত তাঁদের। আপাতত সকলের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁরা। মেসি বলেন, “আর্জেন্টিনার মানুষের ধর্মটাই এই। আমরা সব সময় আরও বেশি চাই। আমাদের মন ভরে না। আমি জানি, এই ম্যাচে হারলে অনেকে বাজে কথা বলত। ওদের সুযোগই দিইনি। সকলের মুখ বন্ধ করে দিয়েছি।এটা বিশ্বকাপের আরও একটা ম্যাচ হলেও বাকি ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকেরা এই জয়টা চেয়েছিল। কারণ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সেটা আমরা সমর্থকদের দিতে পেরেছি।