অর্পিতা মুখার্জী: মঙ্গলবার আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই ভোটে সরকার বদলায় না, কিন্তু প্রেসিডেন্টের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করে এর ফলের ওপর। কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে সরকার চালানো কঠিন হয়ে যায় হোয়াইট হাউসের জন্য। এবার সেই পরীক্ষার মুখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ ভোট হবে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সেনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৪টি আসনে। বর্তমানে নিম্নকক্ষে রিপাবলিকানদের হাতে ২১৮ আসন, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪। সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ক্ষমতাসীন শিবির।
একাধিক জনমত সমীক্ষা বলছে, এবার হাওয়া ঘুরতে পারে। বিরোধী শিবিরের হয়ে প্রচারে নেমে ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ করেছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সমীক্ষা বলছে, ওবামার প্রচার রিপাবলিকান শিবিরকে বড় চাপে ফেলে দিয়েছে।
যদিও আমেরিকার ইতিহাস বলছে, মিডটার্মে ক্ষমতাসীন দলের জেতার নজির কম। সেকথা মাথায় রেখেই সোমবার শেষ প্রচারে আত্মবিশ্বাসী শোনাল ট্রাম্পকে। ওয়াশিংটনের লিঙ্কন মেমোরিয়ালে তিনি বলেন, আমার জীবদ্দশায় এটাই সবচেয়ে ঐতিহাসিক মিডটার্ম হতে চলেছে। সাধারণত ক্ষমতাসীনরা জেতে না, কিন্তু এবার আমরা জিতব।
প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের চরমপন্থী বলে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। নিজের কড়া অভিবাসন নীতির পক্ষে সওয়াল করে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করেছিল, তিনি কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশকে বাঁচিয়েছেন।
এই নির্বাচনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিনিধি পরিষদ হাতছাড়া হলে বাজেটের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে বিরোধীদের হাতে। আর সেনেট হাতছাড়া হলে বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা হারাবেন ট্রাম্প। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত বা ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার পথও খুলে যেতে পারে।
যদিও ট্রাম্পের হাতে রয়েছে ভেটো দেওয়ার ব্রহ্মাস্ত্র। তিনি ইতিমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটরা কাজে বাধা দিলে তিনি একের পর এক ভেটো দেবেন।